নবীনদের পদচারণায় এক অন্যরকম প্রাণচাঞ্চল্যতা ফিরে পেয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামীকাল রোববার থেকে শুরু হচ্ছে নতুন বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস। আর এ উপলক্ষে আজ শনিবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেটে ভিড় জমেছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের। সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের হল বরাদ্দ ঘোষণা করে। আর সেই ঘোষণার পর থেকেই নবীন শিক্ষার্থীরা তাদের লাগেজ, বইপত্র, আর স্বপ্ন নিয়ে ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করেছেন। আজ সকাল থেকে মূল ফটক (ডেইরি গেট) দিয়ে প্রবেশ করা প্রতিটি গাড়ি, রিকশা, কিংবা ভ্যান ভর্তি নতুন মুখ দেখে চেনা যাচ্ছে, তারা এসেছে নিজেদের জীবনের আরেক অধ্যায় শুরু করতে।
নবীনদের জন্য এটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু নয় বরং নিজের দায়িত্ব নিজেই সামলানোর এক নতুন অভিজ্ঞতার শুরু।
লক্ষীপুর থেকে আসা পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের নতুন শিক্ষার্থী নাঈম হাসান বলেন, এতদিন পরিবারের সঙ্গে ছিলাম। আজ প্রথমবারের মতো হলের রুমে উঠব। ভয়, আনন্দ সবকিছু কেমন যেনো মিশে যাচ্ছে। জানি না কেমন হবে, তবে স্বপ্ন অনেক।
তার পাশে দাঁড়ানো নাঈমের বাবা বলেন, ছেলেকে একা ছেড়ে দেওয়া সহজ না। তবু জানি, এখান থেকে সে বড় কিছু শিখে যাবে। এজন্যই তো এত কষ্ট করে তাকে এখানে আনলাম।
শুধু শিক্ষার্থী আর অভিভাবকরাই নন, ক্যাম্পাসে জমে উঠেছে এক অস্থায়ী বাজারও। বিভিন্ন হলের পাশে বসে গেছে সাময়িক দোকান। সেখানে বিক্রি হচ্ছে নতুনদের আবাসিক জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, যেমন: তোষক, বালিশ, মশারি, বালতি, পানির মগ, এমনকি লক-চাবি পর্যন্ত।
বিক্রেতা মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘব করতেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া। এখানে তোষক আর ট্রাংকের চাহিদাই বেশি।
নতুন শিক্ষার্থীদের আগমনে ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে এক অন্যরকম আমেজ। বিভিন্ন হল নবীনদের বরণ করে নিতে প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২১টি আবাসিক হলে প্রায় দুই হাজার নতুন শিক্ষার্থীকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি হলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, নবীনদের সুবিধার্থে প্রশাসন থেকে হেল্প ডেস্ক চালু করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল ইসলাম বলেন, “নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে রিকশা ভাড়া মনিটর করা হচ্ছে, সিনিয়র কতৃক জুনিয়র শিক্ষার্থীদের হেনস্থার ঘটনা যেনো না ঘটে সে ব্যাপারে হলগুলোতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা যেনো নিরাপদে ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে পারে সে ব্যাপারে নিরাপত্তারক্ষীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”
আগামীকাল থেকে তাদের ক্লাস শুরু হবে। ডিপার্টমেন্টগুলোতেও নতুনদের বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি শেষ।
আজকের এই ভিড়, ব্যস্ততা, আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে অসংখ্য নতুন স্বপ্নের যাত্রা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত, সবুজ ক্যাম্পাস আজ যেন এক বিশাল ক্যানভাস, যেখানে আঁকা হচ্ছে স্বপ্ন, সম্ভাবনা আর ভবিষ্যতের রঙিন ছবি। আগামীকাল থেকে ক্লাস শুরু হলেও, সেই উত্তেজনার ছাপ আজ থেকেই পুরো ক্যাম্পাসকে উৎসবমুখর করে তুলেছে।






















