টিকটক সচল রাখতে প্রস্তাবিত চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিনিয়োগকারী হিসেবে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সম্পৃক্ত থাকবেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাদের মধ্যে রয়েছেন মিডিয়া মোগল ল্যাকলান মারডক, ওরাকলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন ও ডেল টেকনোলজিসের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ডেল।
ট্রাম্প বলেন, ‘টিকটকের মার্কিন সম্পদ হস্তান্তর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে আলোচনার অগ্রগতি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী টিকটকের যুক্তরাষ্ট্রে মালিকানার বড় অংশ থাকবে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের হাতে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদে থাকবেন জাতীয় নিরাপত্তা ও সাইবার নিরাপত্তায় অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা।’
হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন যৌথ প্রতিষ্ঠানে বাইটড্যান্সের শেয়ার থাকবে ২০ শতাংশেরও কম। বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডারের মধ্যে রয়েছে সাসকুয়েহানা ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ, জেনারেল আটলান্টিক ও কেকেআর।
ফক্স নিউজের দ্য সানডে ব্রিফিং অনুষ্ঠানে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প টিকটকের চুক্তির অংশ হতে যাওয়া ব্যক্তিত্বদের ‘প্রমিনেন্ট পিপল’ ও ‘আমেরিকান প্যাট্রিয়টস’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি তারা দারুণ কাজ করবেন।’
ট্রাম্প দাবি করেন, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার সমর্থন গড়ে তুলতে টিকটক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
ল্যাকলান মারডক বর্তমানে ফক্স করপোরেশনের সিইও। সম্প্রতি তিনি দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে পরিবারের মিডিয়া সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘৯৪ বছর বয়সী রুপার্ট মারডকও এ চুক্তিতে ভূমিকা রাখতে পারেন।’ তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, বিনিয়োগ করা হলে তা আসবে ফক্স করপোরেশনের মাধ্যমে। মারডক পরিবার বা নিউজ করপোরেশন আলাদাভাবে বিনিয়োগ করবে না।
এলিসন দীর্ঘদিন ধরে টিকটকসংক্রান্ত আলোচনার সঙ্গে যুক্ত। তিনি রিপাবলিকান দলের বড় দাতা হিসেবেও পরিচিত। অন্যদিকে ডেল টেকনোলজিসের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ডেল এ বিষয়ে মন্তব্য করেননি।
বিশ্লেষকরা বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন বাইডেন আমলে পাস হওয়া ২০২৪ সালের আইনের প্রয়োগ করেনি, যেখানে বলা হয়েছিল ২০২৫ সালের জানুয়ারির মধ্যে টিকটকের মার্কিন কার্যক্রম বিক্রি করতে হবে। ট্রাম্প বরং আলোচনাটিকে চীনের সঙ্গে বৃহত্তর অর্থনৈতিক আলাপের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন।






















