নতুন উইন্ডোজ ১১ কম্পিউটার চালু করা মানেই নতুন শুরু। কিন্তু অনেক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেন, ডিফল্ট সেটিংসের কারণে পিসি ব্যবহার শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই নানা ঝামেলায় পড়তে হয়। কখনো অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন, কখনো গোপনে ডাটা সংগ্রহ, আবার কখনো বিজ্ঞাপন, সব মিলিয়ে প্রথম অভিজ্ঞতাই হয় বিরক্তিকর। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন পিসি চালু করার পর কয়েকটি ফিচার বন্ধ করে দিলে অভিজ্ঞতা হবে আরো মসৃণ, দ্রুত ও উন্নত। নিচে উইন্ডোজ ১১ সেটআপের পর পরই যে সাত ফিচার বন্ধ করা উচিত তার বিস্তারিত আলোচনা দেয়া হলো—
১. টিপস, সাজেশন আর বিরক্তিকর নোটিফিকেশন
উইন্ডোজ ১১ ডিফল্টভাবে নানা টিপস, অ্যাপ সাজেশন ও মাইক্রোসফটের পরিষেবা ব্যবহারের প্রস্তাব দেয়। নতুনদের কাছে হয়তো এগুলো সহায়ক মনে হতে পারে, কিন্তু অভিজ্ঞদের জন্য এগুলো কেবল মনোযোগ নষ্ট করে। Settings>System>Notifications এবং Settings>Personalization>Start মেনু থেকে সহজেই এ সাজেশন, টিপস ও নোটিফিকেশন বন্ধ করা যায়। এতে ডেস্কটপ হবে শান্ত, কাজের সময় মনোযোগ অটুট থাকবে।
২. ডাটা ট্র্যাকিং ও সংগ্রহ
উইন্ডোজ ১১ ব্যবহারকারীর অভ্যাস থেকে শুরু করে ডায়াগনস্টিক ডাটা, স্টার্ট মেনুর সার্চ ও ভয়েস টাইপিংয়ের তথ্য পর্যন্ত সংগ্রহ করে। পাশাপাশি প্রতিটি অ্যাকাউন্টে একটি অ্যাডভার্টাইজার আইডি থাকে, যা পারসোনালাইজড বিজ্ঞাপন দেখাতে ব্যবহার হয়। Settings>Privacy & Security থেকে এ ফিচারগুলো বন্ধ করে দিলে অপ্রয়োজনীয় ডাটা সংগ্রহ বন্ধ হয় এবং বিজ্ঞাপন কমে যায়। এতে পিসি ব্যবহারের গোপনীয়তা অনেকটা বেড়ে যায়।
৩. অপ্রয়োজনীয় স্টার্টআপ অ্যাপ ও সার্ভিস
নতুন কম্পিউটার চালু করলে অনেক অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে যায়, যা কম্পিউটারকে ধীর করে দেয়। Settings>Apps>Startup মেনুতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো বন্ধ করলে বুট টাইম দ্রুত হয়। পাশাপাশি উইন্ডোজের কিছু সার্ভিস, যেমন মোবাইল হটস্পট সার্ভিস, উইন্ডোজ আপডেট ডেলিভারি অপ্টিমাইজেশন বা সিসমেইনের মতো ফিচার দরকার না হলে Services অ্যাপে গিয়ে Startup type ‘Disabled’ করা যায়। এতে মেমোরি ও সিপিইউ দুটোই সাশ্রয় হয়।
৪. উইন্ডোজ সার্চ থেকে ওয়েব রেজাল্ট সরানো
উইন্ডোজ ১১-এর সার্চ বক্সে লোকাল ফাইলের সঙ্গে ওয়েবের ফলাফলও দেখায়। এতে প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। Settings>Privacy & Security>Search থেকে ‘Search highlights’ বন্ধ করলে শুধু স্থানীয় ফাইল ও অ্যাপের ফলাফল দেখাবে। চাইলে রেজিস্ট্রি এডিট করে সম্পূর্ণভাবে ওয়েব সার্চও বন্ধ করা যায়, ফলে সার্চ হবে আরো দ্রুত ও ফোকাসড।
৫. টাস্কবারের অপ্রয়োজনীয় আইটেম
উইন্ডোজ ১১-এর টাস্কবারে ডিফল্টভাবে উইজেটস, টাস্ক ভিউসহ নানা আইকন থাকে। Taskbar settings থেকে যেগুলো দরকার নেই তা সরিয়ে দিলে টাস্কবার থাকবে পরিষ্কার। কিবোর্ড শর্টকাট দিয়ে চাইলে আগের সুবিধাগুলো রাখা যায়, যেমন Windows+W বা Windows+Tab।
৬. পুরনো রাইট ক্লিক মেনু ফিরিয়ে আনা
উইন্ডোজ ১১-এর নতুন রাইট ক্লিক মেনু অনেক অপশন ‘Show more options’-এর মধ্যে লুকিয়ে রাখে। চাইলে রেজিস্ট্রি এডিট করে আগের ক্ল্যাসিক মেনু ফিরিয়ে আনা যায়। এতে বাড়তি ক্লিক কমে যায় আর দরকারি ফিচার হাতের নাগালেই থাকে।
৭. উইন্ডোজের বিজ্ঞাপন
লাইসেন্সকৃত উইন্ডোজেও স্টার্ট মেনু, লক স্ক্রিন বা ফাইল এক্সপ্লোরারে প্রচারণা বা অ্যাপ সাজেশন দেখা যায়। যদিও একসঙ্গে সব বিজ্ঞাপন বন্ধ করার অপশন নেই, তবে সেটিংসে গিয়ে একে একে এগুলো বন্ধ করলে ডেস্কটপ হবে দ্রুত, বিজ্ঞাপনমুক্ত ও পরিষ্কার।
উইন্ডোজ ১১-এর এ সাত ফিচার চালু করার পর পরই বন্ধ করলে পিসি হবে দ্রুত, নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত। কয়েক মিনিট সময় দিয়ে সেটিংস পরিবর্তন করলেই প্রথম দিন থেকেই পিসি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা হবে আরো ভালো।






















