ভবিষ্যতে পাকিস্তানের যে কোনো সামরিক অভিযান মোকাবেলা করতে রাশিয়া থেকে আরও পাঁচ ইউনিট এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) কিনবে ভারত।
এতে থাকবে মোট ২৮৮টি অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের নেতৃত্বাধীন ‘প্রতিরক্ষা ক্রয় বিষয়ক কমিটি (ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল বা ডিএসি) ১০ হাজার কোটি রুপির এই পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছে।
এর পাশাপাশি ওই বৈঠকে স্থির হয়েছে, দ্রুততার ভিত্তিতে ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড ও রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত অস্ত্র নির্মাতা ও রফতানিকারক সংস্থা ‘রোজোবোরাএক্স’-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘পন্টসার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’ কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিমানবিধ্বংসী কামান— এই তিন ধরনের সুরক্ষা রয়েছে, যা উন্নত রেডার এবং ট্র্যাকিং সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত। ৩৬ কিমি দূর পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুকে শনাক্ত করতে এবং সেগুলিকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রয়েছে পন্টসারের।
২০১৮ সালে এস ৪০০-র মোট পাঁচটি ইউনিট ভারতে পাঠানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছিল রাশিয়া। এগুলির মধ্যে তিনটি অনেক আগেই ভারতে এসেছিল। গত বছর মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-পর্বে অবশিষ্ট দু’টি ইউনিটের জন্য দীর্ঘ দিন ধরেই তদ্বির করছিল নয়াদিল্লি।
ঘটনাচক্রে, চীনের তিয়ানজিন শহরে এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পার্শ্ববৈঠকে ২০২৬ সালের মধ্যে সেগুলি সরবরাহের বার্তা দিয়েছিল মস্কো। এবার দ্বিতীয় ধাপে আরও পাঁচ ইউনিট এস-৪০০ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পেহেলগাঁও হামলার প্রতিক্রিয়ায় ২০২৫ সালের ৭ মে পাকিস্তানে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল ভারতীয় বাহিনী। এর জবাবে ভারতের ১৫টি শহরকে নিশানা করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তান।
কিন্তু নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছোনোর আগেই অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দিয়েছিল ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। রুশ এস-৪০০ ব্যবহারেই এসেছিল সেই সাফল্য। ইতিমধ্যেই রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এস-৪০০ ট্রায়াম্ফের নির্মাণ শুরু হয়েছে। শুরু হয়েছে প্রযুক্তি হস্তান্তরপর্ব।
এমনকি, এস-৪০০-এর উন্নততর সংস্করণ ‘এস-৫০০ ট্রায়াম্ফটর-এম’ কেনার বিষয়েও দু’দেশের আলোচনা শুরু হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি অংশ জানাচ্ছে।
বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত এস-৪০০-র পাল্লা সর্বোচ্চ ৪০০ কিলোমিটার। অন্য দিকে, ২০২১ সালে রুশ সেনার অন্তর্ভুক্ত হওয়া এস-৫০০ আদতে ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য ‘ইন্টার-কন্টিনেন্টাল অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল’। এর পাল্লা সর্বোচ্চ ৬০০ কিলোমিটার।
ওই সীমার মধ্যে শত্রুপক্ষের ড্রোন, বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র এলেই তা নিমেষে ধ্বংস করে দিতে পারে এস-৫০০।
ভারতের স্বাধীনতা দিবসের বার্তায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছিলেন, ভারতও নিজস্ব আকাশসুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করবে।
আগামী ১০ বছরের মধ্যেই সেই কবচ তৈরি করে ফেলার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানসহ অন্য শত্রুপক্ষের হামলা থেকে দেশের আকাশকে নিরাপদ রাখতেই এটি তৈরি হচ্ছে। এই আকাশসুরক্ষা প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মিশন সুদর্শন চক্র’।





















