দীর্ঘ ৩৬ বছরের শাসনামলে বহুবার অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও বিদেশি চাপ সামলেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। কিন্তু এবার যেন সব সমীকরণ বদলে গেছে। একদিকে মার্কিন বিমান হামলার হুমকি, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের মিত্রদের পতন—সব মিলিয়ে খামেনি এখন তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সংকটের মুখোমুখি।
ইরানের শাসনব্যবস্থায় অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রবিষয়ক নীতিনির্ধারণ করেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এই দায়িত্ব পালন করছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ইরানে তিনি যা বলেন, সেটিই চূড়ান্ত।
১৯৮৯ সালে ক্ষমতায় বসা খামেনি শুরু থেকেই ছিলেন পশ্চিমের কট্টর সমালোচক। নিজের কঠোর আদর্শিক অবস্থানের মাঝেও একের পর এক কৌশলী পদক্ষেপ নিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। ২০১৩ সালে তিনি ‘হিরোয়িক ফ্লেক্সিবিলিটি’ বা ‘বীরোচিত নমনীয়তা’ তত্ত্ব দিয়েছিলেন, যার মাধ্যমে অর্থনীতির স্বার্থে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে সমর্থন জানিয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আবারও ঘোলাটে হয়ে পড়ে।
খামেনির ক্ষমতার পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী ‘বাসিজ’। ২০০৯, ২০২২ এবং চলতি বছরের জানুয়ারির বিক্ষোভ দমনে এই বাহিনীগুলোকে কঠোরভাবে ব্যবহার করেছেন খামেনি। এ ছাড়া তাঁর সরাসরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ‘সেতাদ’ নামক বিশাল আর্থিক সাম্রাজ্য। বিলিয়ন ডলারের এই প্রতিষ্ঠানটি রেভল্যুশনারি গার্ডের অর্থায়নে বড় ভূমিকা রাখে।
একসময় দুর্বল উত্তরাধিকারী হিসেবে গণ্য হওয়া খামেনি আজ ইরানের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক হুমকি এবং আঞ্চলিক মিত্রদের পতনের মুখে খামেনির এই দীর্ঘ শাসনকাল এখন এক বড় অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন।
জানুয়ারিতে দেশজুড়ে হওয়া বিশাল গণবিক্ষোভ দমনে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানিতে বিতর্কিত হয়েছেন খামেনি। এর ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় গত বছর ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আঞ্চলিক রাজনীতিতেও তেহরান এখন কোণঠাসা। লেবাননে হিজবুল্লাহ দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন খামেনির প্রভাবকে সীমিত করে দিয়েছে।




















