ভারতের সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত হালকা যুদ্ধবিমান তেজস (Tejas) ফের দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। প্রশিক্ষণ চলাকালীন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার এই ঘটনাটি তেজস কর্মসূচির ইতিহাসে তৃতীয়বারের মতো কোনো ইউনিটের ধ্বংস হওয়ার ঘটনা। যদিও পাইলট সময়মতো ‘ইজেক্ট’ করে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন, তবে এই দুর্ঘটনা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর এই উচ্চাভিলাষী প্রজেক্টকে আবারও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও তদন্ত
প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি রুটিন প্রশিক্ষণ ফ্লাইটের সময় বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। কোনো জনবসতিহীন এলাকায় এটি আছড়ে পড়ায় বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইঞ্জিনের কারিগরি ত্রুটি নাকি মানবসৃষ্ট ভুল—তা নিশ্চিত হওয়া যাবে ব্ল্যাক বক্স বিশ্লেষণের পর।
কেন দুশ্চিন্তায় ভারতীয় বিমান বাহিনী?
১. নির্ভরযোগ্যতার সংকট: তেজস-কে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষার অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে দেখা হয়। একের পর এক দুর্ঘটনা এই বিমানের সেফটি রেকর্ড এবং নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে জনমনে ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সংশয় তৈরি করছে।
২. উৎপাদনে চাপ: ভারত যখন মার্ক-১এ (Mk-1A) এবং মার্ক-২ এর মতো উন্নত সংস্করণ নিয়ে কাজ করছে, তখন বর্তমান মডেলের এই ব্যর্থতা উৎপাদন ও মোতায়েনের সময়সীমাকে পিছিয়ে দিতে পারে।
৩. রপ্তানি বাজারে ধাক্কা: মালয়েশিয়া ও আর্জেন্টিনার মতো দেশগুলো যখন তেজস কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে, তখন এমন দুর্ঘটনা আন্তর্জাতিক বাজারে এর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
তেজস কর্মসূচির ইতিবৃত্ত
১৯৮০-এর দশকে শুরু হওয়া এই প্রজেক্টটি কয়েক দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভারতীয় বিমান বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়। বর্তমানে এটি পুরনো হয়ে যাওয়া মিগ-২১ (MiG-21) যুদ্ধবিমানগুলোর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে বারবার টেকনিক্যাল গ্লিচ বা কারিগরি সমস্যার কারণে এটি বিমান বাহিনীর অন্যতম দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।





















