ইরানের সম্ভাব্য ‘কঠোর ও অভাবনীয়’ পাল্টা হামলার হাত থেকে বাঁচতে ইসরায়েল তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক স্থাপনা—পার্লামেন্ট ভবন বা নেসেট-এর ঠিক সামনেই মোতায়েন করেছে ‘আয়রন ডোম’। সাধারণত এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি বা জনবহুল শহরের প্রান্তে দেখা গেলেও, সরাসরি পার্লামেন্ট ভবনের সামনে এর অবস্থান নির্দেশ করছে যে, ইসরায়েলি নেতৃত্ব এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
১. কেন এই বিশেষ মোতায়েন?
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে তথ্য রয়েছে যে, ইরান তাদের নতুন প্রজন্মের ‘ফাত্তাহ’ হাইপারসোনিক মিসাইল বা ড্রোন সোয়ার্মের মাধ্যমে সরাসরি ইসরায়েলের ‘সেন্টার অফ পাওয়ার’ বা ক্ষমতার কেন্দ্রে আঘাত হানতে পারে। জর্ডানে মার্কিন সামরিক সমাবেশ এবং ওমান সাগরে চীনের গোয়েন্দা উপস্থিতির পর ইরান তার কৌশল বদলে সরাসরি ইসরায়েলি রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২. আইরন ডোমের সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা
যদিও আইরন ডোম স্বল্প পাল্লার রকেট ও ড্রোন ঠেকাতে অত্যন্ত কার্যকর (সাফল্যের হার প্রায় ৯০%), তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে:
হাইপারসোনিক হুমকি: ইরানের ‘ফাত্তাহ-১’ বা ‘ফাত্তাহ-২’ এর মতো হাইপারসোনিক মিসাইল ঠেকানোর ক্ষমতা আইরন ডোমের নেই। সেক্ষেত্রে ইসরায়েলকে ‘অ্যারো-৩’ বা ‘ডেভিডস স্লিং’-এর ওপর নির্ভর করতে হবে।
মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরক্ষা: পার্লামেন্টের সামনে এই মোতায়েন যতটা না সামরিক, তার চেয়ে বেশি মনস্তাত্ত্বিক। এটি মূলত ইসরায়েলি নাগরিকদের এবং বিশ্বের কাছে একটি বার্তা দেওয়া যে, রাষ্ট্র যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।
৩. ইরানের অবস্থান
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ‘শেষ হুঁশিয়ারি’ এবং আইআরজিসি-র ড্রোন স্কোয়াড্রনগুলোর মুভমেন্টের পর তেহরান থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তাদের লক্ষ্যবস্তু হবে ইসরায়েলের সুনির্দিষ্ট সামরিক ও প্রশাসনিক ভবন। ইসরায়েলি পার্লামেন্ট ভবন নেসেট সেই তালিকার শীর্ষে থাকতে পারে বলেই সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
৪. বর্তমান চিত্র
জেরুজালেমের আকাশে এখন যুদ্ধের আমেজ। নেসেট ভবনের আশেপাশে নিরাপত্তা কয়েক স্তরে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে কখনোই পার্লামেন্টের এত কাছে আইরন ডোম ব্যাটারি মোতায়েন করার নজির দেখা যায়নি।





















