শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনীর যৌথ হামলায় কেঁপে উঠেছে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বেশ কয়েকটি শহর। এই আকস্মিক হামলার পর ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরানও।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদ আছেন। হামলার সময় তেহরানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটলেও তার কোনো ক্ষতি হয়নি।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে নিয়ে উৎসুক্য বাড়ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তেহরানে খামেনির কার্যালয়ের নিকটবর্তী এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটার পর তাকে দ্রুত একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
মার্কিন বার্তা সংস্থা -এপি নিশ্চিত করেছে, খামেনির দপ্তরের খুব কাছেই আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্র। তবে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা বা অবস্থান সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
শনিবার ভোর থেকেই তেহরানের উত্তর, মধ্য ও পূর্ব অংশে দফায় দফায় বিস্ফোরণ ঘটে। আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ইসনা’র ভিডিওতে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় সংলগ্ন পাস্তুর স্ট্রিটের কাছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে। তেহরান ছাড়াও ইসফাহান, কোম, কারাজ, তাব্রিজ এবং কেরমানশাহ শহরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ভিডিও বার্তায় নিশ্চিত করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তিনি বলেন, আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেব এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেব।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এই হামলাকে ইসরাইলের ওপর সম্ভাব্য হুমকি দূর করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান থেকে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা আসতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল কাসেম আরাগচি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, শীর্ষ নেতাদের ওপর কোনো আক্রমণ ইরানকে দুর্বল করতে পারবে না। তিনি বলেন, আমাদের শাসনব্যবস্থা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নেতৃত্ব পরিবর্তিত হয়। গত ১২ দিনের সংঘাতে আমরা অনেক উচ্চপদস্থ কমান্ডারকে হারিয়েছি, কিন্তু আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার গতি মন্থর হয়নি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই যৌথ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে আসতে বাধ্য করা। মাসের পর মাস ধরে এই অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং পরমাণু আলোচনা চলার সময়ই হামলার সময় নির্ধারণ করা হয়।
বর্তমানে তেহরানসহ পুরো ইরানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ইরান এই হামলার কী ধরনের চূড়ান্ত জবাব দেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।




















