ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, কাতার, জর্ডান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মোট ৫টি অত্যাধুনিক মার্কিন রাডার সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে ইরানি ব্যালিস্টিক মিসাইল। এর ফলে ওই অঞ্চলে আমেরিকার ‘আর্লি ওয়ার্নিং’ বা আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার সক্ষমতা অনেকাংশে স্তব্ধ হয়ে গেছে।
১. কাতারে ১.১ বিলিয়ন ডলারের রাডার ধ্বংস
হামলার সবচেয়ে বড় সাফল্যটি এসেছে কাতারে। সেখানে অবস্থিত উচ্চ পর্যায়ের আগাম সংকেত দাতা রাডার AN/FPS-132 (Upgraded Early Warning Radar) ইরানের নিখুঁত নিশানায় ধ্বংস হয়েছে।
ক্ষমতা: এই রাডারটির নজরদারি সীমা ছিল প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার, যা চীন পর্যন্ত নজর রাখতে সক্ষম ছিল।
ক্ষয়ক্ষতি: বাজার মূল্য অনুযায়ী এই একটি রাডার ধ্বংস হওয়ায় আমেরিকার প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এটি ধ্বংস হওয়ার ফলে পুরো এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নজরদারি এখন অন্ধপ্রায়।
২. জর্ডান ও আমিরাতে টিপিওয়াই-২ (AN/TPY-2) রাডার বিধ্বস্ত
যৌথ বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত ৪টি AN/TPY-2 রাডারও এই হামলায় গুঁড়িয়ে গেছে।
জর্ডানে ১টি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৩টি রাডার ধ্বংস হয়েছে।
মূল্য: প্রতিটি রাডারের বাজার মূল্য প্রায় ৫৭৪ মিলিয়ন ডলার।
প্রভাব: এই রাডারগুলো মূলত থাড (THAAD) এবং প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমকে গাইড করত। এগুলো ধ্বংস হওয়ায় এখন ওই দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর ঘাঁটিগুলো ইরানি মিসাইলের সামনে সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।
৩. কৌশলগত বিশ্লেষণ: ইরান কেন রাডার আগে ধ্বংস করল?
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের একটি সুপরিকল্পিত ‘ডেস্ট্রাকশন অফ এনিমি এয়ার ডিফেন্স’ (DEAD) কৌশল।
সাশ্রয়ী বনাম দামি: ইরান তাদের সস্তা এবং শর্ট রেঞ্জ মিসাইল দিয়ে এই শত কোটি ডলারের রাডারগুলো ধ্বংস করেছে।
পথ পরিষ্কার করা: রাডারগুলো ধ্বংস করার মাধ্যমে ইরান মূলত আমেরিকার ‘চোখ’ উপড়ে ফেলেছে। এর ফলে ইরান যদি পরবর্তীতে তাদের লং রেঞ্জ হাইপারসোনিক মিসাইল ব্যবহার করে, তবে সেগুলো শনাক্ত করার বা ঠেকানোর কোনো উপায় আমেরিকার থাকবে না।




















