ফিফা বিশ্বকাপ শেষে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সময় এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চার্টার্ড ফ্লাইটে ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
স্পন্সরশিপের কোটি কোটি ডলার মার্কিন ব্যাংকের মাধ্যমে পাচারের অভিযোগে এএফএ সভাপতি ক্লাউদিও ‘চিকি’ তাপিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI) জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইনফোবায়ে’ (Infobae)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলের বেশ কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে বুয়েনস আইরেসে ফেরার পথে মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো হস্তক্ষেপ করে।
এমনকি তাপিয়াকে হেফাজতে নেওয়ার গুঞ্জন ছড়ালেও এএফএ এক বিবৃতিতে তা অস্বীকার করেছে।
বিবৃতিতে এএফএ জানিয়েছে যে, তাদের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া কিংবা কোষাধ্যক্ষ পাবলো তোভিগিনোকে মার্কিন আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক সমন পাঠানো হয়নি।
তবে সংস্থাটি এটি স্বীকার করেছে যে, একটি ‘তৃতীয় পক্ষকে’ মার্কিন গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে, যারা সম্ভবত এএফএ-র বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তথ্য বা সাক্ষ্য প্রদান করতে পারে।
ইনফোবায়ে আরও জানিয়েছে, এএফএ-র সাথে যুক্ত ৩০ কোটি ডলারেরও (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকা) বেশি মূল্যের বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে তদন্ত করছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
গত ডিসেম্বরে অর্থপাচার অনুসন্ধানে চালানো এক অভিযানের পর থেকেই আর্জেন্টিনা ফুটবলের আর্থিক লেনদেন নিয়ে কড়া নজরদারি শুরু হয়।
বিমানবন্দরে উপস্থিত একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্যমতে, আর্জেন্টিনা দল যখন বিমানে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখন ফেডারেল এজেন্টরা একটি বাসের ভেতরে তাপিয়া এবং তোভিগিনোকে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন মার্কিন আদালতের তলব করা সেই তৃতীয় পক্ষের নাম প্রকাশ করেনি। তবে তারা বারবার জোর দিয়ে বলছে যে, মার্কিন কর্তৃপক্ষ সরাসরি তাপিয়া বা তোভিগিনোকে লক্ষ্য করে কোনো তদন্ত চালাচ্ছে না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো খতিয়ে দেখছে যে এএফএ-র সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো অর্থ জালিয়াতি বা পাচারের উদ্দেশ্যে আমেরিকার ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে আদান-প্রদান করা হয়েছে কি না।
ব্যাংক রেকর্ড থেকে জানা গেছে যে, বিভিন্ন মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কয়েক মিলিয়ন ডলার লেনদেন হয়েছে। তথ্যগুলো থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, তহবিলের একটি বড় অংশ পরবর্তী স্থানান্তরের আগে মাত্র কয়েক দিনের জন্য ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে রাখা হয়েছিল; যা সাধারণত অর্থপাচারের একটি কৌশল হিসেবে বিবেচিত হয়।




















