কোনো বড় প্রাতিষ্ঠানিক অনুদান বা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণাগারের সহায়তা ছাড়াই ভাষাবিজ্ঞান ও আইনি তথ্য বিশ্লেষণ নিয়ে নতুন একটি গবেষণা পদ্ধতি তৈরি করেছেন বাংলাদেশি স্বাধীন গবেষক মাহমুদুল হাসান স্বরন।
তার দাবি, ‘দ্য ডিজিটাল রোড মেথড’ (The Digital Road Method) নামে পদ্ধতিটি কম্পিউটারভিত্তিক ভাষাবিজ্ঞান, গাণিতিক বিশ্লেষণ এবং নথির কাঠামো বিশ্লেষণের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। গবেষণাটি আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত গবেষণা প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটাল রিপোজিটরিতে প্রকাশ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গবেষণাটির পূর্ণ শিরোনাম ‘The Digital Road Method: A Neutral Analysis of Structural Syntax, Modulo-9 Reduction, and Document Object Architecture in the Quranic Matrix’।
গবেষকের ভাষ্য অনুযায়ী, পদ্ধতিটিতে জটিল লেখা ও নথির কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে ‘Modulo-9 Reduction’সহ বিভিন্ন গাণিতিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডকুমেন্টের কাঠামো ও ডিজিটাল অবজেক্ট আর্কিটেকচার বিশ্লেষণের বিষয়টিও গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্বরনের দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বড় পরিসরের তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে তথ্যের কাঠামো যাচাই এবং বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণের জন্য এ ধরনের পদ্ধতি ভবিষ্যতে কাজে লাগানো যেতে পারে। তবে এর ব্যবহারিক কার্যকারিতা ও বৈজ্ঞানিক গ্রহণযোগ্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই ও গবেষণার মাধ্যমে মূল্যায়নের বিষয়।
আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে গবেষণা
মাহমুদুল হাসান স্বরনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গবেষণাপত্রটি SSRN, Zenodo ও Figshare-এর মতো আন্তর্জাতিক গবেষণা প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত রয়েছে। গবেষণার ডিজিটাল সংস্করণ স্থায়ীভাবে শনাক্ত করার জন্য ডিজিটাল অবজেক্ট আইডেন্টিফায়ার (DOI) ব্যবহারের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
গবেষণার সংশ্লিষ্ট ফাইল, পদ্ধতির বিবরণ এবং লাইসেন্স-সংক্রান্ত নথি একটি উন্মুক্ত GitHub repository-তে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গবেষক আরও জানান, গবেষণাটির বাণিজ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিজস্ব লাইসেন্স শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গবেষণার পদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ছাড়াই গবেষণা
মাহমুদুল হাসান স্বরন ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি ঢাকার সেন্ট্রাল ল কলেজের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি স্বাধীন গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
তার ভাষ্য, প্রচলিত বিশ্ববিদ্যালয় বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কাঠামোর বাইরে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি এই গবেষণার কাজ করেছেন।
স্বাধীন গবেষকদের জন্য ডিজিটাল রিপোজিটরি ও উন্মুক্ত গবেষণা প্ল্যাটফর্মগুলো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করছে বলে মনে করেন তিনি। এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়ের বাইরে থেকেও গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক গবেষক ও পাঠকদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে।
তবে গবেষণাটির বৈজ্ঞানিক দাবি, পদ্ধতির কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যৎ প্রয়োগযোগ্যতা নিয়ে আরও স্বাধীন গবেষণা ও বিশেষজ্ঞ মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি





















