বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন হয়েছে। দেশীয় প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো তৈরি হয়েছে স্মার্ট মিসাইল সিস্টেম যুক্ত অত্যাধুনিক সামরিক ড্রোন ‘KX-2’। এটি কেবল দেশের সামরিক শক্তিকেই সুসংহত করবে না, বরং বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা শিল্পে বাংলাদেশের সক্ষমতাকেও তুলে ধরবে।
‘KX-2’ ড্রোনের বৈশিষ্ট্য ও উদ্ভাবনের পেছনের গল্প
সাম্প্রতিককালে একটি বেসরকারি প্রতিরক্ষা প্রকৌশল সংস্থা সামরিক বাহিনীর একটি গবেষণা শাখা এবং একটি স্টার্টআপ প্ল্যাটফর্মের সহযোগিতায় এই লাইট অ্যাটাক ড্রোন ‘KX-2’ তৈরি করেছে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি, নিবিড় গবেষণা এবং স্থানীয় প্রকৌশলীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল এই ড্রোন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ‘KX-2’ ড্রোনের কিছু সম্ভাব্য বৈশিষ্ট্য হলো:
- স্মার্ট মিসাইল সিস্টেম: ড্রোনটিতে দুটি গাইডেড মাইক্রো মুনিশন বা ছোট আকারের স্মার্ট মিসাইল বহনের ক্ষমতা রয়েছে। এই মিসাইলগুলো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম, যা ড্রোনের কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
- রেঞ্জ: প্রায় ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত কার্যকর রেঞ্জ থাকতে পারে, যা এটিকে নজরদারি ও আক্রমণের জন্য যথেষ্ট পরিসর দেবে।
- ফ্লাইট সময়: ৯০ মিনিট পর্যন্ত একটানা আকাশে থাকার সক্ষমতা রয়েছে।
- নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা: ডিভাইসটির সফটওয়্যার এবং নিয়ন্ত্রণ ইউনিট সম্পূর্ণ দেশীয়ভাবে বিকশিত হয়েছে, যা দেশীয় সক্ষমতার একটি বড় প্রমাণ।
- সেন্সর: এতে ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল/ইনফ্রারেড (EO/IR) ক্যামেরা এবং লেজার রেঞ্জফাইন্ডার এর মতো অত্যাধুনিক সেন্সর থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নজরদারি, লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিতকরণ এবং সঠিক আক্রমণে সহায়তা করবে।
- কার্যকারিতা: এটি নজরদারি ছাড়াও সীমিত অস্ত্র বহনে সক্ষম একটি ট্যাকটিক্যাল ইউএভি (Unm্যান্ড এরিয়াল ভেহিক্যাল – UAV)। এর মাধ্যমে টার্গেট একুইজিশন, লাইট অ্যাটাক ও রিকনেসেন্স মিশন চালানো সম্ভব হবে।
প্রতিরক্ষা শিল্পে আত্মনির্ভরশীলতার পথে বাংলাদেশ
আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী মূলত স্লোভেনিয়ার ব্রামর সি ফোর আই, তুরস্কের বায়রাক্টার টিবি২ এবং ইতালির সিলক্স ফ্যালকো সিরিজের মতো বিদেশি ড্রোন ব্যবহার করত। দেশীয়ভাবে ‘KX-2’ এর মতো সামরিক ড্রোন তৈরি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতে আমদানিনির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে একটি বিশাল অগ্রগতি।
এই অর্জন ভবিষ্যতে আরও উন্নত এবং শক্তিশালী ড্রোন সিস্টেম তৈরির পথ খুলে দেবে। এটি দেশের সামরিক গবেষণা ও উন্নয়নে (R&D) বিনিয়োগের গুরুত্বকে তুলে ধরে এবং দেশের সামরিক সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে এটি বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানকেও শক্তিশালী করবে।
‘KX-2’ ড্রোনটি বর্তমানে প্রোটোটাইপ এবং টেস্টিং পর্যায়ে রয়েছে। এর সফল উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বকে তার প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং সামরিক উদ্ভাবনী শক্তির বার্তা দিচ্ছে।






















