অননুমোদিত মোবাইল ফোন বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের বিটিআরসি ঘেরাও কর্মসূচি রবিবার (৭ ডিসেম্বর) আগারগাঁওকে অচল করে দেয়। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দুপুরের পর পুরো এলাকা জুড়ে মারাত্মক যানজট সৃষ্টি করে, যার জেরে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন রোগী ও সাধারণ মানুষ।
বিটিআরসি কার্যালয়ের অদূরে শিশু, পঙ্গু ও নিউরোসায়েন্সেস এই তিন বিশেষায়িত হাসপাতালে রোগীদের ঢুকতে-বের হতে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হতে হয়। নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্স সাইরেন বাজিয়েও বের হতে পারেনি। রোগীকে অন্য হাসপাতালে নিতে পারলাম না বেদনাহত ভাবে বলেন অ্যাম্বুলেন্স চালক ইয়াহিয়া।
রাস্তায় আটকে পড়া শিক্ষক হোসনে আরা হাঁটুর ব্যথা নিয়েও অটোরিকশা থেকে নেমে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এগোতে বাধ্য হন। আশপাশের সড়কজুড়ে কয়েকশ গাড়ি আটকে থাকে, মোটরসাইকেল আরোহীরা হর্ন বাজিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন; কিন্তু আন্দোলনকারীরা সড়ক ছাড়েননি।
বিক্ষোভকারীরা আগারগাঁও মোড়ে অন্তত চার জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে উত্তেজনা বাড়ালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। রাস্তার দুই পাশে ভাড়ায় খাওয়ার দোকানে ভিড় জমালেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হয় না।
তেলের লরি চালক মিরাজ জানান, গাবতলীর পথে রওনা দিয়েছিলাম এখন ৩ ঘণ্টা ধরে আটকে আছি। অনেকে আন্দোলনকারীদের অনুরোধ করলেও কোনো সাড়া মিলেনি। উল্টো মাইক হাতে নেতা ঘোষণা দেন “আমরা কিছু দেখি না, কিছু শুনি না।
মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের ব্যানারে আন্দোলনকারীরা এনইআইআর প্রক্রিয়ার সংস্কার, ন্যায্য করনীতি ও সিন্ডিকেট বিরোধী ব্যবস্থা দাবি করেছেন। তবে একতরফাভাবে সব সড়ক বন্ধ করে হাজারো মানুষকে দুর্ভোগে ফেলার কারণে সাধারণ নাগরিকদের ক্ষোভ বাড়ছে।
আগারগাঁও-সংলগ্ন পুরো এলাকা সন্ধ্যা পর্যন্ত কার্যত অবরুদ্ধই ছিল যেখানে মানুষের ন্যূনতম চলাচলও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।






















