সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল স্টোরিটেলিং নিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সহযোগিতায় “টিকটক মাস্টারক্লাস অন জার্নালিজম অ্যান্ড ডিজিটাল স্টোরিটেলিং” শীর্ষক দুই দিনের একটি বিশেষ ওয়ার্কশপ আয়োজন করে টিকটক।
নর্থ সাউথ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এই ওয়ার্কশপে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক, এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটররা অংশ নেন। এই আয়োজনে ছিল আলোচনা, টিকটক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের প্রশিক্ষণ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য একটি জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলের নিউজরুম পরিদর্শনের সুযোগ।
সংবাদ প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলভাবে টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার, ব্যাখ্যামূলক ভিডিও, জনসচেতনতামূলক এবং তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট তৈরির বিষয়গুলো এতে উঠে আসে। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া কেন্দ্রিক সাংবাদিকতা, দর্শকের সাথে সংযোগ, তথ্য যাচাই, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং নৈতিকভাবে কনটেন্ট তৈরির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানতে পারেন শিক্ষার্থীরা।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, “আমাদের মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের সাথে টিকটক এমন একটি আয়োজন করায় আমরা আনন্দিত। এটি আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং সাংবাদিকতা, গণমাধ্যম ও ডিজিটাল যোগাযোগে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করবে বলে আমি মনে করি।”
ওয়ার্কশপের প্রথম দিন বক্তব্য দেন মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হারিসুর রহমান, স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস-এর ডিন ড. মো. রিজওয়ানুল ইসলাম এবং উপাচার্য ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী। এছাড়া, ‘ভবিষ্যতের সাংবাদিকতা কেমন হবে?’ শিরোনামের একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ড. মো. হারিসুর রহমান, টিকটকের ট্রাস্ট অ্যান্ড সেফটি লিড আসমা আনজুম, বিবিসি বাংলার সম্পাদক মীর সাব্বির এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারান পারিহার। এই আলোচনায় ভবিষ্যতের সাংবাদিকতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব, নির্ভরযোগ্য কনটেন্টের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।
ড. মো. হারিসুর রহমান বলেন, “সাংবাদিকতার পড়াশুনা এখন আর শুধু প্রচলিত রিপোর্টিং ও যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আমাদের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের শুধু নিউজরুমের জন্য নয়, মিডিয়া, কমিউনিকেশন এবং তথ্য ভিত্তিক কনটেন্ট তৈরির জন্যও প্রস্তুত করা।”
ওয়ার্কশপের দ্বিতীয় দিনে নিউজরুম ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। যমুনা টেলিভিশনে গবেষক এবং নর্দান ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মো. জাহিদ হোসেন খান, সংবাদ বা কনটেন্টের বিষয়বস্তু নির্বাচন, তথ্য যাচাই, সাংবাদিকতার নৈতিকতা, সাংবাদিকতার সামাজিক প্রভাব এবং ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকতার পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া, ‘ম্যাজিক রাজিক’ নামে পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাশিক মোহতাসিন, এবং সাবা চৌধুরী কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। কনটেন্ট তৈরি, দর্শক তৈরি, ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ এবং এই পেশার আরও দিকগুলো তারা তুলে ধরেন।
টিকটকের এপ্যাক ও মেটাপিএসএইই অঞ্চলের ট্রাস্ট অ্যান্ড সেফটি অ্যান্ড টেক কমিউনিকেশন লিড, ইমাদ জাফরের সাথে গণমাধ্যম, সাংবাদিকতা ও ক্যারিয়ার সম্পর্কে একটি আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। ডিজিটাল মিডিয়া এবং গণমাধ্যমে সফল হতে কী কী দক্ষতা ও মানসিকতা দরকার, সেটিও উঠে আসে। ইমাদ জাফর বলেন, “মানুষ নতুন আইডিয়া জানতে, শিখতে এবং নতুন গল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে টিকটক ব্যবহার করছে। এই মাস্টারক্লাসের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের এমন দক্ষতা শেখাতে চেয়েছি, যেন তারা সাংবাদিকতার মূল নীতি, নির্ভুলতা, তথ্য যাচাই, জবাবদিহি এবং জনস্বার্থ মেনে সৃজনশীল ও দায়িত্বশীলভাবে শর্ট ভিডিও তৈরি করতে পারে।”
এই ওয়ার্কশপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ডিজিটাল স্টোরিটেলিং প্রতিযোগিতা। এতে অংশগ্রহণকারীরা #growwithtiktok এবং #nsu হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে নিজেদের ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয় নিয়ে শর্ট ভিডিও তৈরি করেন। সেরা তিনটি কনটেন্টকে এতে পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সমাপনী বক্তব্য দেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য ড. নাসার ইউ. আহমেদ। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীরা একটি জাতীয় টিভির নিউজরুম ঘুরে দেখার সুযোগ পান। সেখানে তাঁরা সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন এবং সংবাদ সংগ্রহ, প্রযোজনা ও উপস্থাপনার প্রক্রিয়া বোঝার সুযোগ পায়।




















