রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিকের মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন- ইউসুফ, সিয়াম এবং জহুরুল। এই ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার হয়েছে।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান, এডিসি জুয়েল রানার সার্বিক তত্বাবধানে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী ইফতেখার হাসান ও একাধিক টিম সরাসরি অভিযান পরিচালনা করে শুক্রবার দুপুরে পৃথক অভিযানে তিনজনকে গ্রেফতার করে এবং ফোনটি উদ্ধারে সক্ষম হয়।
এর আগে ২৫ জুলাই, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বছিলা রোড থেকে মোবাইলটি ছিনতাই হয়। কিন্তু এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে পুলিশের কাছে গিয়ে সমাধান না পেয়ে উল্টো হয়রানির শিকার হন তিনি। এরপর ওই সাংবাদিক নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দেন। যা মুহুর্তে ভাইরাল হয়। সমালোচনার ঝড় ওঠে। পুলিশ প্রশাসনও বিপাকে পড়ে যায়। ঘটনার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ফোনসহ দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
ছিনাতাইয়ের শিকার দৈনিক বণিক বার্তায় সহ-সম্পাদক আহমাদ ওয়াদুদ জানান, মোহাম্মদপুরের তিন রাস্তার মোড়ে চাপাতি দিয়ে আঘাত করে ছিনতাইকারীরা তার কাছ থেকে মোবাইল ও মানিব্যাগ কেড়ে নেয়। তবে থানার ডিউটি অফিসার পাত্তা না দিলে এক পর্যায়ে থানার ওসির সঙ্গে কথা বলেন। ওসি বিষয়টির সমাধান না দিয়ে তাকে নানা প্রশ্ন করেন এবং তাকে বলেন, আমি কমদামি ফোন ব্যবহার করি আর আপনি এত দামি ফোন নিয়ে ঘোরেন? অবশেষে সেই ওসি তার একজন এসআইকে দায়িত্ব দেন। এসআইকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান ভুক্তভোগী ওয়াদুদ। এরপর সেখানে গিয়ে দেখতে পান, ছিনতাইকারী তখন আড্ডা দিচ্ছে। এসময় তিনি সেই এসআইকে তাদের দেখিয়ে দেন যাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু এসআই সেখানে যান এবং অন্য লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ফেরত আসেন। সেখান থেকে আসার পর ভুক্তভোগীকে বাসায় চলে যেতে বলেন।
এদিকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠায় মোহাম্মদপুর থানার চার পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছেন— এসআই জসিম উদ্দিন, এএসআই আনারুল এবং দু’জন পুলিশ সদস্য মাজেদুর রহমান ও মো. নুরুন্নবী।






















