যোগদানের আগেই পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-র বিরুদ্ধে আয়োজিত এক মানববন্ধনকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত সেই কর্মকর্তা। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারী আচরণ এবং ছাত্র-জনতার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে এই মানববন্ধন করা হয়। তবে এক বিবৃতিতে ইউএনও এই সকল অভিযোগ অস্বীকার করে তার কর্মকাণ্ডের পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন এবং এটিকে অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিক্রিয়া বলে উল্লেখ করেছেন।
এক লিখিত বিবৃতিতে নবাগত ইউএনও জানান, তার বিরুদ্ধে আনা স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি বলেন, “আমার কাছে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে কেউ কোনো সেবা চাইতে আসেনি বা আমি কারও সঙ্গেই কোনো দুর্ব্যবহার করিনি। যদি কেউ এমন দাবি করে থাকেন, তবে আমি সুস্পষ্টভাবে তার বক্তব্য শুনতে চাই।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত ০৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষা অফিসের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত একটি র্যালি ও আলোচনা সভাকে ‘গুপ্ত মিটিং’ বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
ইউএনও তার বিবরণে কিছু দৃঢ় প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন, যা স্বার্থান্বেষী মহলকে তার বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি জানান:
১. অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ: ঈশ্বরদীতে যোগদানের পর তিনি মোট ১১টি মামলায় ১১ ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। এর ফলে উপজেলার অবৈধ বালু সিন্ডিকেট বন্ধ হয়ে যায়, যা মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী কয়েকজনকে অসন্তুষ্ট করে।
২. ঘাটের সাব-লিজ ও অবৈধ টোল আদায়: সাড়াঘাটের রানাখড়িয়া তরিয়া মহল ঘাটের মূল ইজারাদার নিজে ঘাট পরিচালনা না করে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের কয়েকজনের কাছে আইনবহির্ভূতভাবে সাব-লিজ প্রদান করেন। এই সাব-লিজ গ্রহীতারা নদীর মাঝ দিয়ে চলাচলকারী নৌকা থেকে জোরপূর্বক ২০০০-৩০০০ টাকা করে টোল আদায় করছিল, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
ইউএনও জানান, ঘাটের ইজারা শর্ত অনুযায়ী, শুধুমাত্র ঘাটে পণ্য লোড-আনলোড বা যাত্রী পারাপারের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত হারে টোল আদায় করা যাবে। নদীর মাঝ দিয়ে চলাচলকারী নৌকার ওপর টোল আরোপের কোনো সুযোগ নেই। এই বিষয়টি তিনি ইজারাদার, নৌপুলিশ এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলে একটি মহল তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়।
ইউএনও এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মানববন্ধন এবং অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “বিবেকের তাড়নায় আমি সত্য ঘটনা তুলে ধরলাম। সরকার আমাকে এই উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সকল মানুষকে আইন ও বিধির আলোকে সেবা প্রদানের জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি সততা ও নৈতিকতার সাথে সেই দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করছি এবং ঈশ্বরদীর সকল নাগরিকের সহযোগিতা পেলে এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
এই ঘটনায় ঈশ্বরদীর সুশীল সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী চক্র নবাগত কর্মকর্তাকে শুরুতেই চাপে ফেলার চেষ্টা করছে।






















