সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে স্মার্টফোনের ইউএসবি-সি পোর্টটি মূলত চার্জ দেওয়ার একটি মাধ্যম। অফিসে বা ঘুমানোর আগে ফোনটি চার্জে দেওয়া ছাড়া বেশিরভাগ সময়ই পোর্টটি উপেক্ষিত থাকে। অনেকে মাঝে মাঝে তারযুক্ত হেডফোন বা গাড়ির অডিও সিস্টেমে সংযোগ দেওয়ার মতো কাজেও এটি ব্যবহার করেন। তবে বাস্তবে স্মার্টফোন নিজেই একটি কম্পিউটার আর এর ইউএসবি-সি পোর্টটির সেই কম্পিউটারের মতোই নানা কার্যক্ষমতা রয়েছে।
প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার লিখেছে, ইউএসবি-সি পোর্টে সাধারণ ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ, গেইম কন্ট্রোলার বা ছোট এলইডি লাইট সবই কাজ করে। এগুলো খুব বিস্ময়কর নাও মনে হতে পারে কিন্তু স্মার্টফোনের পোর্টের ব্যবহারিক সম্ভাবনা আরও অনেক বিস্তৃত। কনটেন্ট তৈরি, ইন্টারনেট শেয়ার, এমনকি ভিআর অভিজ্ঞতা নেওয়ার মতো কাজেও ইউএসবি-সি পোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কনটেন্ট তৈরিতে মাইক্রোফোন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ছোট মাইক্রোফোন ব্যবহার করতে দেখা যায়। পোশাকে ক্লিপ করা এই মাইক্রোফোনগুলো টেলিভিশন শোতেও ব্যবহার করা হয় এবং অডিওর মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করে। বর্তমানে অনেক ব্র্যান্ড স্মার্টফোনের জন্য ইউএসবি-সি রিসিভার ভিত্তিক ওয়্যারলেস ল্যাভালিয়ার মাইক্রোফোন তৈরি করছে।
কনটেন্ট তৈরি ছাড়াও বিয়ের অনুষ্ঠান বা এমনকি কোলাহলপূর্ণ জায়গায় জুম মিটিং বা এধরনের কাজে এসব মাইক্রোফোন সহযোগী ভূমিকা রাখে।
হাই-ফাই অডিও বা স্টুডিও রেকর্ডিং সংযোগ
ইউএসবি-সি পোর্ট দিয়ে শুধু হেডফোন সংযোগই নয়, আরও উন্নত অডিও ডিভাইসও ব্যবহার করা যায়। পেশাদার মাইক্রোফোন, এমআইডিআই যন্ত্র কিংবা অডিও ইন্টারফেইস সবই স্মার্টফোনে কাজ করে।
আইফোনে এলডিএসি বা এপিটিএক্স এর মতো উচ্চমানের ব্লুটুথ অডিও কোডেক সমর্থন না থাকায় ইউএসবি-সি ডঙ্গল ব্যবহার করে উচ্চমানের অডিও শোনা যায় যেমন এফআইআইও কেএ১১ বা কিওস্টাইল কিউসিসি ডঙ্গল প্রো।
ওয়াই-ফাই ছাড়াই ফোনের ইন্টারনেট শেয়ার
ফোন প্ল্যানে যদি হটস্পট সুবিধা থাকে তাহলে ল্যাপটপ বা অন্য ডিভাইসে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়। এতে সাধারণত ওয়াইফাই হটস্পট ব্যবহারই রেওয়াজ। কিন্তু, অনেক ব্যাহারকারী যুক্ত নেটওয়ার্কে ইউএসবির মাধ্যমে তারযুক্ত সংযোগই বেশি স্থিতিশীল এবং দ্রুততর হতে পারে। গেইমিংয়ের ক্ষেত্রেও এটি উপকারী এবং নিরাপদ।
আইওএস-এ সেটিংস > সেলুলার > সেটআপ পার্সোনাল হটস্পট-এ গিয়ে ফোনকে কম্পিউটারে সংযুক্ত করলেই কাজ হয়। অ্যান্ড্রয়েডে সেটিংস > কানেকশনস > মোবাইল হটস্পট অ্যান্ড টিথারিং > ইউএসবি টিথারিংয়ে গিয়ে সুবিধাটি চালু করা যায়।
ফোনকে ভিআর ‘মুভি থিয়েটার’ বানানো
স্মার্টগ্লাসের জনপ্রিয়তার কারণে ভিআর কিছুটা পিছিয়ে গেলেও অনেক ডিভাইস এখনো স্মার্টফোনের স্ক্রিনকে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি প্রজেক্ট করতে ব্যবহার করা যায়। মেটা কোয়েস্ট ৩ এবং কোয়েস্ট ২ এই সুবিধা দেয়।
এটির জন্য ইউএসবি ৩.০ সুপারস্পিড কেবল এবং একটি ইউভিসি/ইউভিএআই সমর্থিত ভিডিও ক্যাপচার কার্ড প্রয়োজন। এরপর মেটা কোয়েস্ট এইচডিএমআই লিংক অ্যাপ দিয়ে পুরো সিস্টেম চালু করা যায়। এতে বড় স্ক্রিনে নেটফ্লিক্স দেখা সম্ভব। যদিও মাঝপথে কাজে উঠতে হলে হেডসেট খুলে ফেলা একটু বিরক্তিকর হতে পারে।
এ ছাড়া এক্সরিয়াল বা রেনিও-এর মতো কোম্পানির স্ট্যান্ডঅ্যালোন ভিআর গ্লাসও বাজারে আছে যেগুলো ফোন বা অন্য ডিভাইসের ভিডিও আউটপুট নিয়ে ভার্চুয়াল স্ক্রিন তৈরি করে। এগুলোর দাম তুলনামূলক বেশি হলেও ভ্রমণকারী বা মোবাইল গেইমারদের জন্য আকর্ষণীয়।






















