পড়াশোনা, অফিসের কাজ কিংবা বিনোদন, সবকিছুর জন্যই ইন্টারনেট অত্যন্ত জরুরি। আর এই কাজের জন্য ঘরে ঘরে এখন ব্যবহার করা হয় ওয়াইফাই রাউটার। তবে অনেক সময় রাউটারের স্পিড কমে গেলে ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে মানুষ নানা রকম কৌশল খুঁজতে শুরু করে। ইদানীং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি অদ্ভুত কৌশল বেশ ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে, রাউটারের ওপর একটি পাঁচ টাকার কয়েন রাখলেই নাকি ইন্টারনেটের স্পিড দ্বিগুণ হয়ে যায়।
অনেকের ধারণা, এই কয়েন সিগন্যালের দিক পরিবর্তন করে কানেক্টিভিটি উন্নত করতে সাহায্য করে। কিন্তু এই দাবির সত্যতা কতটুকু? এর পেছনে কি কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে, নাকি এর ফলে হিতে বিপরীত হতে পারে? চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।
রাউটারের ওপর কেন কয়েন রাখা হচ্ছে?
ভাইরাল হওয়া দাবিগুলোতে বলা হচ্ছে, কয়েনের ধাতু রাউটার থেকে নির্গত তরঙ্গকে প্রতিফলিত বা অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে। যে ঘরে নেটওয়ার্ক ঠিকমতো পৌঁছায় না, সেভাবে কয়েন রাখলে নাকি ওয়াইফাই সিগন্যাল সহজে পৌঁছে যায়।
এমনকি কিছু মানুষ নেটওয়ার্কে সামান্য উন্নতির দাবিও করছেন। তবে টেলিকম ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা একে স্রেফ একটি ভ্রান্ত ধারণা হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং এর কোনো প্রযুক্তিগত বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন।
ধাতব বস্তু রাউটারের জন্য কেন ক্ষতিকর?
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা কখনোই রাউটারের ওপর বা তার কাছাকাছি কোনো ধাতব বস্তু রাখার পরামর্শ দেন না। এর পেছনে রয়েছে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ-
সিগন্যাল দুর্বল হওয়া: ধাতু ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বা সেগুলোর গতিপথ এলোমেলো করে দিতে পারে। ফলে ইন্টারনেট সিগন্যাল শক্তিশালী হওয়ার পরিবর্তে উল্টো আরও দুর্বল হয়ে যায়।
রাউটার অতিরিক্ত গরম হওয়া: রাউটারের ওপর কয়েন বা অন্য কোনো ভারী বস্তু রাখলে তার ভেন্টিলেশন বা বাতাস চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে রাউটার অতিরিক্ত গরম হয়ে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
যেভাবে ওয়াইফাই সিগন্যাল বাড়াবেন
কয়েন রাখার মতো অবৈজ্ঞানিক কৌশল বাদ দিয়ে ঘরের ইন্টারনেটের স্পিড এবং কভারেজ বাড়াতে কিছু কার্যকরী নিয়ম মেনে চলতে পারেন-
সঠিক স্থান নির্বাচন: রাউটার সবসময় ঘরের মাঝামাঝি এবং কিছুটা উঁচুতে স্থাপন করুন। এতে বাড়ির সব কোণায় সমানভাবে সিগন্যাল পৌঁছাতে পারে।
দূরত্ব বজায় রাখুন: মোটা দেওয়াল, লোহার আলমারি কিংবা বড় আসবাবপত্রের পেছনে রাউটার রাখা থেকে বিরত থাকুন।
ইলেকট্রনিক যন্ত্র থেকে দূরে রাখুন: মাইক্রোওয়েভ ওভেন, কর্ডলেস ফোন এবং টেলিভিশনের কাছাকাছি রাউটার রাখবেন না। কারণ এসব যন্ত্র ওয়াইফাই সিগন্যালে বড় ধরনের ইন্টারফেয়ারেন্স বা বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।
নিয়মিত রিস্টার্ট: সপ্তাহে অন্তত এক-দুবার রাউটার রিস্টার্ট করুন। এতে এর মেমোরি পরিষ্কার হয় এবং পারফরম্যান্স কিছুটা উন্নত হয়।
এক্সটেন্ডার ব্যবহার: বাড়ি অনেক বড় হলে বা সিগন্যাল ডেড-জোন (যেখানে নেটওয়ার্ক পৌঁছায় না) থাকলে ওয়াইফাই এক্সটেন্ডার বা মেশ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারেন।



















