বাড়িতে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করলেও অনেক সময় বোঝা যায় না, আসলে সংযোগের গতি কত। ভিডিও বাফার করা, ফাইল ডাউনলোডে বেশি সময় লাগা কিংবা ভিডিও কলে বারবার সমস্যা হওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে প্রথমেই ওয়াই-ফাইয়ের স্পিড পরীক্ষা করে দেখা ভালো। এর জন্য কোনও বিশেষ যন্ত্রের প্রয়োজন নেই। স্মার্টফোন বা কম্পিউটার দিয়েই কয়েক মিনিটে ইন্টারনেটের গতি মাপা যায়।
স্পিড মাপতে কী প্রয়োজন?
প্রথমে যে ফোন, ট্যাবলেট বা কম্পিউটারে স্পিড পরীক্ষা করবেন, সেটিকে আপনার ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করুন। এরপর কোনো নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট স্পিড টেস্ট পরিষেবা বা অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। সেখানে সাধারণত ডাউনলোড গতি, আপলোড গতি এবং পিংয়ের তথ্য দেখানো হয়। স্পিড সাধারণত এমবিপিএস-এ প্রকাশ করা হয়। ডাউনলোড গতি দিয়ে বোঝা যায় ইন্টারনেট থেকে তথ্য আপনার ডিভাইসে কত দ্রুত আসছে। অনলাইনে ভিডিও দেখা, ওয়েবসাইট খোলা বা ফাইল ডাউনলোডের ক্ষেত্রে এই গতি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে আপলোড গতি দেখায় আপনার ডিভাইস থেকে ইন্টারনেটে তথ্য পাঠানোর গতি। ভিডিও কল, ছবি বা বড় ফাইল আপলোড এবং অনলাইন ব্যাকআপের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ।
কীভাবে পরীক্ষা করবেন?
প্রথমে স্পিড টেস্ট পরিষেবাটি খুলে ‘গো’, ‘স্টার্ট’ বা একই ধরনের পরীক্ষার বোতামে চাপ দিন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সিস্টেম আপনার ইন্টারনেট সংযোগ পরীক্ষা করে ফলাফল দেখাবে। একবার পরীক্ষা করেই সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো। দিনের বিভিন্ন সময়ে কয়েকবার পরীক্ষা করুন। যেমন সকালে, দুপুরে এবং রাতে। কারণ একই সংযোগে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বা নেটওয়ার্কের চাপের কারণে সময়ে সময়ে গতি পরিবর্তিত হতে পারে।
রাউটারের কাছাকাছি ও দূরে পরীক্ষা করুন
ওয়াই-ফাইয়ের স্পিড শুধু ব্রডব্যান্ড সংযোগের ওপর নির্ভর করে না। রাউটার থেকে আপনার ডিভাইস কত দূরে রয়েছে, মাঝখানে দেয়াল বা অন্য কোনো বাধা আছে কি না, তার ওপরও সংযোগের মান প্রভাবিত হতে পারে। তাই প্রথমে রাউটারের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে স্পিড পরীক্ষা করুন। এরপর যে ঘরে সাধারণত ওয়াই-ফাই ব্যবহার করেন, সেখানে গিয়ে আবার পরীক্ষা করুন। দুই ফলাফলের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকলে রাউটারের অবস্থান বা ওয়াই-ফাই কভারেজের বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।
স্পিড কম পেলে কী করবেন?
আপনার ব্রডব্যান্ড প্যাকেজে যে গতি দেওয়ার কথা, পরীক্ষার ফল তার তুলনায় নিয়মিতভাবে অনেক কম হলে প্রথমে রাউটার একবার বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড পর চালু করতে পারেন। এরপর আবার পরীক্ষা করুন।
তারপরও সমস্যা থাকলে রাউটারের অবস্থান, একসঙ্গে কতগুলো ডিভাইস সংযুক্ত রয়েছে এবং কোনও ডিভাইস বেশি ডাটা ব্যবহার করছে কি না, তা পরীক্ষা করুন। নিয়মিতভাবে প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম গতি পাওয়া গেলে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সংযোগ পরীক্ষা করানো যেতে পারে।
রাউটারে এত অ্যান্টেনা কেন, আসলে কতটি প্রয়োজন?
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি স্পিড টেস্টের ফল সবসময় একই থাকবে না। সার্ভার, নেটওয়ার্কের চাপ, ওয়াই-ফাই সিগন্যাল এবং একই সময়ে অন্য ডিভাইসের ব্যবহার সবকিছুর ওপর ফলাফল কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।





















