অনেক আইফোন ব্যবহারকারী এখনো এমন কিছু অ্যাপ ডাউনলোড করছেন, যেগুলোর আর কোনো প্রয়োজন নেই। বরং এসব অ্যাপ ফোনকে ধীর করে দিতে পারে, ব্যাটারির গুণগত মান নষ্ট করে দিতে পারে এবং অনেক সময় ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট এমইউওর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমনই আট ধরনের অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যেগুলো মুছে ফেলাই বরং আইফোনের জন্য ভালো হবে।
ফ্ল্যাশলাইট অ্যাপ: আগে আইফোনে আলাদা করে ফ্ল্যাশলাইট অ্যাপ দরকার হতো। কিন্তু ২০১৩ সালে আইএসও৭ আপডেট আসার পর থেকে প্রতিটি আইফোনেই বিল্ট-ইন ফ্ল্যাশলাইট আছে, যা সহজেই কন্ট্রোল সেন্টার থেকে চালু করা যায়। তৃতীয় পক্ষ বা থার্ড পার্টি ফ্ল্যাশলাইট অ্যাপগুলো সাধারণত বিজ্ঞাপনে ভরা থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় অনুমতি চায়, যেমন লোকেশন বা কন্টাক্টে প্রবেশ।
কিউআর কোড স্ক্যানার অ্যাপ: আইফোনের ক্যামেরা অ্যাপ দিয়েই এখন যেকোনো কিউআর কোড স্ক্যান করা যায়। আলাদা করে অ্যাপ ডাউনলোড করার দরকার পড়ে না। অনেক থার্ড পার্টি অ্যাপ ধীর গতিসম্পন্ন, বিজ্ঞাপন ভর্তি ও অনেক সময় সাবস্ক্রিপশনও চায়।
ব্যাটারি সেভার অ্যাপ: এ অ্যাপগুলো দাবি করে ব্যাটারি সাশ্রয় করবে, কিন্তু আইওএসে থার্ড পার্টি অ্যাপ ব্যাটারির পারফরম্যান্স নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তারা শুধু টিপস দেখায়, যা ফোনের সেটিংসে আগে থেকেই থাকে। অনেক সময় এসব অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চলেই বরং ব্যাটারি বেশি খরচ করে।
কম্পাস অ্যাপ: আইফোনে একটি কম্পাস অ্যাপ আগে থেকেই ইনস্টল করা থাকে, যা বেশ ভালোভাবেই কাজ করে এবং ইন্টারনেট ছাড়াও চলে। বাহারি ডিজাইন ও অতিরিক্ত ফিচারের লোভ দেখিয়ে তৃতীয় পক্ষ বা থার্ড পার্টির অ্যাপগুলো অনেক সময় লোকেশন ডাটা সংগ্রহ করে।
রম বুস্টার অ্যাপ: ফোন স্লো হলে অনেকেই রÅvম ক্লিনার বা বুস্টার অ্যাপ ডাউনলোড করেন, কিন্তু আইফোনে এ ধরনের অ্যাপ কোনো কাজেই আসে না। আইওএস নিজেই ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ ও মেমোরি বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পরিচালনা করে। বাইরের অ্যাপ দিয়ে র্যাম ক্লিন করার চেষ্টা করলে বরং ক্ষতি হতে পারে।
মিরর অ্যাপ: আয়নার কাজ করার জন্য আলাদা মিরর অ্যাপের দরকার নেই। সেলফি ক্যামেরা অন করলেই নিজেকে দেখা যায়। তবে এসব অ্যাপ শুধু ক্যামেরা চালু করে চারপাশে একটি বর্ডার দেয়, সঙ্গে থাকে অনেক বিজ্ঞাপন ও অপ্রয়োজনীয় অনুমতি।
কল রেকর্ডার অ্যাপ: আগে আইফোনে কল রেকর্ড করতে তৃতীয় পক্ষ বা থার্ড পার্টি অ্যাপ দরকার হতো। কিন্তু আইওএস১৮.১ ভার্সন থেকে কল রেকর্ডের সুবিধা বিল্ট-ইনভাবে যোগ হয়েছে। এখন কল চলাকালীন ওপরের বাম কোনায় থাকা আইকনে ট্যাপ করলেই রেকর্ডিং শুরু হয়, যা পরে নোটস অ্যাপে সংরক্ষিত থাকে।
অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপ: আইফোনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতটাই শক্তিশালী যে অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপের কোনো দরকার পড়ে না। আইওএস প্লাটফর্মে প্রতিটি অ্যাপ আলাদাভাবে চলে, যাকে স্যান্ডবক্সিং বলে। ফলে ভাইরাস ছড়ানোর সুযোগ থাকে না। তবু কিছু অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপ নানা নিরাপত্তার কথা বলে টাকা নেয়ার চেষ্টা করে।
সবশেষে বলা যায়, যেসব অ্যাপ আপনার ফোনে আগেই আছে বা যা আইফোন নিজেই ভালোভাবে করে, তার জন্য বাড়তি অ্যাপ ব্যবহার করা শুধু মেমোরি নষ্ট নয়, নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হতে পারে। তাই ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করার আগে ভাবুন, অ্যাপটা আদৌ দরকার কিনা।






















