ডুয়াল ফোল্ডের যুগ শেষে এখন শুরু হয়েছে ট্রাইফোল্ড ফোনের সময়। স্যামসাং ও হুয়াওয়ে উভয়ই নতুন প্রজন্মের এ স্মার্টফোন বাজারে এনেছে, যা সাধারণ ফোনকে বড় ট্যাবলেটে রূপ দিতে পারে। তবে এক্ষেত্রে দুই কোম্পানি পুরোপুরি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করেছে। ডিভাইস দুটি নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা এখানে তুলে ধরা হলো—
ফোল্ডেবল ডিজাইন
স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ডে ভেতরের দিকে ফোল্ডিং ডিজাইন ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ১০ ইঞ্চির মূল ডিসপ্লে ভাঁজের ভেতরে থাকে। বাইরে থাকছে ৬ দশমিক ৫ ইঞ্চির কাভার স্ক্রিন। ফলে ধুলোবালি বা স্ক্র্যাচের আশঙ্কা কম থাকে। অন্যদিকে হুয়াওয়ে মেট এক্সটিএসে বাইরের দিকে ফোল্ডিংয়ের ‘জেড-শেপ’ নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। এতে তিনটি ভিউ মোড পাওয়া যায়।
ডিসপ্লে প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা
স্যামসাংয়ের ১০ ইঞ্চি ডায়নামিক অ্যামোলেড ২এক্স ডিসপ্লে, ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট ও ১৬০০ নিট উজ্জ্বলতার সুবিধা দেয়। কাভার স্ক্রিনও যথেষ্ট উজ্জ্বল ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল। হুয়াওয়ে ১০ দশমিক ২ ইঞ্চির ওএলইডি ডিসপ্লে ব্যবহার করেছে, যা ৯০ হার্টজ এলটিপিও রিফ্রেশ রেট সমর্থন করে। এর বড় সুবিধা হলো এম-পেন ৩ স্টাইলাস সাপোর্ট।
নির্মাণশৈলী ও উপকরণ
স্যামসাং আর্মার অ্যালুমিনিয়াম, টাইটানিয়াম হিঞ্জ ও গরিলা গ্লাস সিরামিক ২ ব্যবহার করেছে। এতে আইপি৪৮ পানি ও ধুলো প্রতিরোধক সুবিধাও রয়েছে। হুয়াওয়ে এয়ারোস্পেস-গ্রেড স্টিল ও আট স্তরের হিঞ্জ ব্যবহার করেছে। মেট এক্সটিএস তুলনামূলকভাবে হালকা—মাত্র ২৯৮ গ্রাম। আর স্যামসাংয়ের ওজন ৩০৯ গ্রাম।
কর্মক্ষমতা ও হার্ডওয়্যার
স্যামসাং স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট ফর গ্যালাক্সি, ১৬ জিবি র্যাম ও ১ টেরাবাইট পর্যন্ত স্টোরেজ ব্যবহার করেছে। হুয়াওয়ে কিরিন ৯০২০ চিপ ব্যবহার করেছে, যা আগের চেয়ে ৩৬ শতাংশ উন্নত বলে দাবি করা হয়েছে। দুই ফোনেই ব্যাটারি ৫৬০০ এমএএইচ। ৬৬ ওয়াট তারযুক্ত ও ৫০ ওয়াট তারবিহীন চার্জিং সুবিধা রয়েছে। স্যামসাংয়ে রয়েছে ৪৫ ওয়াট তারযুক্ত ও ১৫ ওয়াট তারবিহীন চার্জিং সুবিধা।
ক্যামেরা সক্ষমতা
স্যামসাংয়ে ২০০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা, ১২ মেগাপিক্সেল আল্ট্রা-ওয়াইড ও ১০ মেগাপিক্সেল টেলিফটো লেন্স রয়েছে। দুটি ১০ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরাও রয়েছে। হুয়াওয়ে ৫০ মেগাপিক্সেল প্রধান সেন্সর, ৪০ মেগাপিক্সেল আল্ট্রা-ওয়াইড, ১২ মেগাপিক্সেল ৫ দশমিক ৫ গুণ অপটিক্যাল জুম টেলিফটো ও একটি মাল্টিস্পেকট্রাল সেন্সর ব্যবহার করেছে। স্যামসাংয়ের শক্তিশালী এআই প্রসেসিং ছবির মান বাড়াতে সাহায্য করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সফটওয়্যার ও উৎপাদনশীলতা
স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড ১৬ ও ওয়ান ইউআই ৮ ব্যবহার করেছে, যা গুগলের সব অ্যাপ সমর্থন করে। এর ডেস্ক মোড সরাসরি ১০ ইঞ্চি স্ক্রিনেই ছোট ডেস্কটপের অভিজ্ঞতা দেয়। হুয়াওয়েতে হারমোনিওএস ৫.১ ব্যবহৃত হয়েছে, তবে গুগল অ্যাপ নেই। ডেস্কটপ মোড ব্যবহারের জন্য বাহ্যিক স্ক্রিন প্রয়োজন।
সার্বিক মূল্যায়ন
সামগ্রিক আলোচনা থেকে গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক ব্যবহারকারীদের জন্য বেশি উপযোগী বলে ধরে নেয়া যায়। এর টেকসই নকশা, উজ্জ্বল ডিসপ্লে ও উন্নত সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা এটিকে এক ধাপ এগিয়ে রাখছে। মেট এক্সটিএস উদ্ভাবনী হলেও আউটওয়ার্ড ফোল্ডিং ও সফটওয়্যার সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু ব্যবহারকারীর জন্য সমস্যা হতে পারে।




















