নিজেদের বৈধ আমদানিকারক ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পরিবেশক হিসেবে পরিচয় দিলেও তলে তলে অবৈধ মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের উস্কানি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে দুই প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এরা হলেন সুমাস টেক (Sumash Tech)-এর প্রোপাইটর ও ডেক্সিম্পো ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের এমডি আবু সাঈদ পিয়াস এবং ড্যাজেল (Dazzle)-এর স্বত্বাধিকারী দিদারুল ইসলাম খান।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দুই ব্যবসায়ী একদিকে নিজেদের ‘বৈধ’ প্রমাণ করতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তির কাগজ দেখাচ্ছেন, অন্যদিকে এনইআইআর (NEIR) বাধার মুখে ফেলতে সারা দেশের অবৈধ ব্যবসায়ীদের সংগঠিত করে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নামাচ্ছেন।
আবু সাঈদ পিয়াসের প্রতিষ্ঠান ‘ডেক্সিম্পো ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ (Deximpo International Ltd.) নিজেদের ওয়েবসাইটে দাবি করে, তারা জনপ্রিয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ওয়ানপ্লাস (OnePlus)-এর পার্টনার। এছাড়া তারা বিখ্যাত চাইনিজ ইলেকট্রনিক্স কোম্পানি অ্যাঙ্কার ইনোভেশন লিমিটেড (Anker)-এর জাতীয় পরিবেশক।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, পিয়াস মূলত এই বৈধ পরিচয়গুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন।অ্যাঙ্কার বা ওয়ানপ্লাসের কিছু পণ্য বৈধ পথে এনে কাস্টমস ও প্রশাসনের কাছে নিজেকে ‘ক্লিন’ রাখেন। এই বৈধতার আড়ালে তিনি হাজার কোটি টাকার অবৈধ ও চোরাই পণ্যের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন। সুমাস টেক দীর্ঘদিন ধরেই গ্রে মার্কেটের অন্যতম বড় খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত।
আবু সাঈদ পিয়াস এবং ড্যাজেলের দিদারুল ইসলাম খান বর্তমানে অবৈধ মোবাইল সিন্ডিকেটের দুই মূল স্তম্ভ।
দিদারুল: যার বিরুদ্ধে বছরে ৫০০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ এবং দুদক যার তদন্ত করছে, তিনি জোগান দিচ্ছেন অর্থের।
পিয়াস: তার ‘টেক-স্যাভি’ ইমেজ এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের তকমা ব্যবহার করে নীতিনির্ধারকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, এই দুজন মিলে সাধারণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বোঝাচ্ছেন যে, “এনইআইআর চালু হলে আপনারা পথে বসবেন।” অথচ নিজেরা বৈধ লাইসেন্স ও ডিস্ট্রিবিউশনশিপ নিয়ে নিরাপদ অবস্থানে আছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পিয়াস ও দিদারুলদের উস্কানির পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র কাজ করছে:
একচ্ছত্র আধিপত্য: তারা চান ছোট অবৈধ ব্যবসায়ীরা আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে শুল্ক কমানোর বা বৈধতার সুযোগ আদায় করুক। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পিয়াস ও দিদারুল তাদের বিশাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পুরো বাজার দখল করবেন।

পিয়াসের হাতে যেহেতু ওয়ানপ্লাস ও অ্যাঙ্কারের মতো ব্র্যান্ডের ডিস্ট্রিবিউশন আছে, তাই অবৈধ মার্কেট বন্ধ হয়ে গেলে তিনি বৈধ পথে একচেটিয়া ব্যবসা করবেন। আবার অবৈধ মার্কেট চালু থাকলে সেখানেও তিনি রাজা। অর্থাৎ ‘চিটও তাদের, পটও তাদের’। তারা নিজেরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে ছোট ব্যবসায়ীদের ‘লংমার্চ’ ও ধর্মঘটের মতো কর্মসূচিতে নামিয়ে দিচ্ছেন।
প্রতারিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোও
প্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন, অ্যাঙ্কার বা ওয়ানপ্লাসের মতো আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো কি জানে তাদের পার্টনাররা বাংলাদেশে অবৈধ বাণিজ্যের হোতা? পিয়াসের প্রতিষ্ঠান ডেক্সিম্পো একদিকে বৈধ ব্যবসার কথা বলে, অন্যদিকে চোরাই ফোন সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দেয়—যা আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্সের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিটিআরসি সূত্র জানিয়েছে, যারা বৈধ ব্যবসার আড়ালে থেকে বাজার অস্থিতিশীল করার ইন্ধন দিচ্ছে, তাদের তালিকা করা হচ্ছে। পিয়াস বা দিদারুল কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। তাদের দ্বিমুখী আচরণের প্রমাণ মিললে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






















