এনইআইআর (NEIR) বা অবৈধ ফোন বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সারা দেশের সাধারণ মোবাইল ব্যবসায়ীরা যখন রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন এই আন্দোলনের নেপথ্য কারিগর ও শীর্ষ অবৈধ সিন্ডিকেট হোতা দিদারুল ইসলাম খান খেলছেন দ্বিমুখী চাল।
অভিযোগ উঠেছে, ‘ড্যাজেল’ (Dazzle)-এর স্বত্বাধিকারী দিদারুল মূলত সাধারণ ব্যবসায়ীদের ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করে সরকারকে চাপে ফেলে আমদানি শুল্ক কমানোর পায়তারা করছেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ দিদারুল ইসলাম গোপনে আন্তর্জাতিক মোবাইল ব্র্যান্ডগুলোর মাদার কোম্পানি থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (NOC) বা বৈধ আমদানির অনুমতিপত্র আগেই সংগ্রহ করে রেখেছেন। তার পরিকল্পনা—আন্দোলনের চাপে সরকার শুল্ক কমালে তিনি রাতারাতি ‘বৈধ আমদানিকারক’ বনে যাবেন এবং আজকের আন্দোলনকারী ছোট ব্যবসায়ীরাই তখন তার কাছ থেকে পণ্য কিনতে বাধ্য হবেন।
দিদারুল দেশের প্রায় ২০ হাজার মোবাইল ব্যবসায়ীকে সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে আন্দোলনে উস্কানি দিচ্ছেন। তার উদ্দেশ্য হলো, সরকার যেন বাধ্য হয়ে আমদানি শুল্ক কমায় এবং বৈধ আমদানির লাইসেন্স দেয়। এই বৈধ লাইসেন্স পেলে মাত্র ৮-১০ জন বড় মাফিয়া, যাদের মধ্যে দিদারুলের ডেজেল অন্যতম, বাজারে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে। অনুসন্ধানে আশঙ্কা করা হচ্ছে, বৈধ লাইসেন্স পেলেও তারা অন্তত ৫০% মোবাইল চোরাচালানের মাধ্যমে এনে ঘুষ ও সিস্টেমের ত্রুটি কাজে লাগিয়ে বৈধতা দেবে।
সাধারণ ব্যবসায়ীদের এনইআইআর-এর বিরুদ্ধে রাস্তায় নামালেও দিদারুল নিজে রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। সারা দেশের হাজারো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী যখন নিজেদের ফেসবুক পেজ ও প্রোফাইলে এনইআইআর বিরোধী পোস্ট দিয়ে ঝুঁকি নিচ্ছেন, তখন দিদারুল বা তার প্রতিষ্ঠান ‘ড্যাজেল’-এর ভেরিফায়েড পেজ ও ব্যক্তিগত প্রোফাইল রহস্যজনকভাবে নীরব। সেখানে আন্দোলন নিয়ে একটি শব্দও নেই। এমনকি অন্যরা আন্দোলনের অংশ হিসাবে সারা দেশে দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা ফেসবুকে দিলেও ডেজেল বন্ধের বিষয়ে লিখেছে ‘অনিবার্য কারণবশত’। সব বিক্রয়কর্মীকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে যাতে সরকার বা NEIR এর বিরুদ্ধে কথা না বলে। এ থেকেও বোঝা যায় দিদারুল মূলত ছোট ব্যবসায়ীদের আন্দোলনে ঠেলে দিয়ে নিজে ফায়দা লুটতে চায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি দিদারুলের ‘সেফ এক্সিট’ প্ল্যান। আন্দোলন ব্যর্থ হলে বা আইনি ঝামেলা হলে তিনি বলবেন, “আমি তো কিছু বলিনি।” কিন্তু সফল হলে পুরো ফায়দাটা তিনি একাই লুটবেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, দিদারুল জানেন এনইআইআর ঠেকানো সম্ভব নয়। তাই তিনি বিকল্প পথে হাঁটছেন। ছোট ব্যবসায়ীদের যেহেতু এলসি (LC) খোলার বা মাদার কোম্পানির এনওসি পাওয়ার সক্ষমতা নেই, তাই শুল্ক কমলেও তাদের দিদারুলের মতো বড় মাফিয়াদের কাছ থেকেই পণ্য কিনে ব্যবসা করতে হবে।
বিষয়টি আঁচ করতে পেরে অনেক সাধারণ ব্যবসায়ী এখন ক্ষুব্ধ। মোতালেব প্লাজার এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দিদার ভাই আমাদের বলছেন রাস্তায় নামতে, দোকান বন্ধ রাখতে। অথচ তার নিজের পেজে কোনো স্ট্যাটাস নেই। তিনি মূলত আমাদের আবেগকে ব্যবহার করে নিজের লাইসেন্স আর ট্যাক্স কমানোর ধান্দা করছেন। আমরা পথে বসলে তার কিছু যায় আসে না।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বসুন্ধরা শপিং মলের একজন মোবাইল ব্যবসায়ী বলেন আমাদের ব্যবসায়ী নেতারা যাদের বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তারা দোকান বন্ধ রাখলেও অনলাইনে তাদের প্রভাব রয়েছে ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ঠিকই ফোন বিক্রি করতেছে শুধু বিপদে আছি আমরা যারা ছোট ব্যবসায়ীরা।
বসুন্ধরা শপিং মলের আরও একজন গেজেট ব্যবসায়ী বলেন, আমার দোকানে ফোন বিক্রি করি না বিভিন্ন গেজেট আইটেম নিয়ে আমি কাজ করি । আমার ব্যবসার সাথে বর্তমান আন্দোলনে কোন সংশ্লিষ্টতা নাই, তারপরেও ব্যবসায়ী নেতাদের চাপে দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছি।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, দিদারুল ইসলাম খানের এই কৌশল অত্যন্ত পরিষ্কার। তিনি অবৈধ সিন্ডিকেটের ‘গডফাদার’ থেকে ‘বৈধ মাফিয়া’ হতে চাইছেন। সরকার যদি তার এই ফাঁদে পা দিয়ে শুল্ক কমায় এবং তাকে বৈধতা দেয়, তবে মোবাইল বাজার গুটিকয়েক লোকের হাতে জিম্মি হয়ে পড়বে।






















