রাজধানীর অন্যতম বৃহত্তম বিপণিবিতান বসুন্ধরা শপিং মলে বৈধ মোবাইল ব্যবসায়ীদের দোকান খুলতে না দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মার্কেট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এনইআইআর (NEIR) বাস্তবায়নের বিরোধিতায় রাস্তায় নামা অবৈধ ফোন সিন্ডিকেটের আন্দোলনকে সমর্থন জোগাতেই ‘নিরাপত্তা’র ঠুনকো অজুহাতে মোবাইল মার্কেট হিসেবে পরিচিত বেজমেন্ট-১ বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, বসুন্ধরা শপিং মলের পোশাক, জুতা ও প্রসাধনীসহ অন্য সব ফ্লোর এবং দোকানপাট স্বাভাবিকভাবে খোলা রয়েছে। ক্রেতাদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। অথচ মোবাইলের জন্য নির্ধারিত বেজমেন্ট-১ এর প্রবেশপথগুলো ব্যারিকেড দিয়ে আটকে রেখেছেন মলের নিরাপত্তাকর্মীরা।
বসুন্ধরা শপিং মলের সাধারণ ও বৈধ মোবাইল ব্যবসায়ীরা জানান, তারা সকালে দোকান খুলতে এসে বাধার মুখে পড়েন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে বৈধ পথে ব্যবসা করি। অবৈধ ফোন ব্যবসায়ীরা তাদের স্বার্থে রাস্তায় আন্দোলন করছে, এটা তাদের বিষয়। কিন্তু সেই আন্দোলনকে সাপোর্ট দিতে গিয়ে বসুন্ধরা মার্কেট কর্তৃপক্ষ কেন আমাদের দোকান খুলতে দেবে না? এটা স্পষ্টত অবৈধ সিন্ডিকেটের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের আঁতাত।”
দোকান খুলতে না পারায় চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। ভুক্তভোগীরা জানান, বসুন্ধরা সিটির দোকান ভাড়া অত্যন্ত চড়া। এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমাদের প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভাড়া গুনতে হয়, দোকান বন্ধ থাকলেও ভাড়া মওকুফ হবে না। মাস শেষে কর্মচারীদের বেতন দিতে হবে। বেচা-বিক্রি বন্ধ থাকলে আমরা চলব কীভাবে? কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাবেই আজ আমরা জিম্মি।”
মার্কেট কর্তৃপক্ষের দাবি, নিরাপত্তার স্বার্থেই মোবাইল ফ্লোর বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের প্রশ্ন, পুরো মার্কেটের নিরাপত্তা ঠিক থাকলে শুধু বেজমেন্ট-১ এ কেন নিরাপত্তার সমস্যা হবে?
বিশ্লেষকরা বলছেন, এনইআইআর চালু হলে অবৈধ ফোনের বাজার ধসে পড়বে। বসুন্ধরা সিটির বেজমেন্ট-১ এ বৈধ ফোনের বড় একটি অংশ বেচাকেনা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, সেই অবৈধ সিন্ডিকেটের চাপেই মার্কেট কর্তৃপক্ষ বৈধ ব্যবসায়ীদের দোকান খুলতে দিচ্ছে না, যাতে ধর্মঘট বা আন্দোলনকে ‘সফল’ দেখানো যায়।
বৈধ ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে দোকান খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, গুটি কয়েক অবৈধ ব্যবসায়ীর স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে হাজারো বৈধ ব্যবসায়ীকে পথে বসানোর চক্রান্ত মেনে নেওয়া হবে না। তারা এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।






















