ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বা অবৈধ ফোন বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মোবাইল ব্যবসায়ীদের চলমান আন্দোলন আর কেবল ‘ব্যবসায়িক দাবি’র মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, এই আন্দোলনের আড়ালে মূলত পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরির নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে।
অভিযোগ উঠেছে, মোবাইল সিন্ডিকেটের শীর্ষ হোতারা সাধারণ ব্যবসায়ীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাজপথে নামাচ্ছেন। আর মিছিল ও সমাবেশের ভিড়ে মিশে যাচ্ছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা। তাদের মূল লক্ষ্য—ব্যবসায়িক ইস্যুকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলা।

গত কয়েক দিনে রাজধানীর আগারগাঁও, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট এবং রাঙামাটিতে মোবাইল ব্যবসায়ীদের ব্যানারে যেসব কর্মসূচি পালিত হয়েছে, সেখানে ব্যবসায়িক দাবির চেয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান ও উস্কানিমূলক বক্তব্য বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে। সূত্র বলছে, গত ১৭ মাসে রেমিট্যান্স শাটডাউনসহ নানাভাবে চেষ্টা করেও আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলন জমাতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এবার তারা স্পর্শকাতর ‘মোবাইল মার্কেট’ ও ‘এনইআইআর’ ইস্যুকে বেছে নিয়েছে।


এই ষড়যন্ত্রের মূল অর্থায়নকারী হিসেবে উঠে এসেছে ‘ড্যাজেল’ (Dazzle)-এর স্বত্বাধিকারী দিদারুল ইসলাম খান-এর নাম। দিদারুল মূলত আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপকমিটির সাবেক সদস্য এবং পলাতক নেতা আরশাদুল আলম বাচ্চুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ব্যবসায়িক পার্টনার।

বাচ্চু দুবাই থেকে কলকাঠি নাড়ছেন আর দেশে দিদারুল তার বিশাল অর্থের ভাণ্ডার খুলে দিয়েছেন। সাধারণ ব্যবসায়ীদের দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য করা এবং আন্দোলনে লোক সমাগম করতে কোটি কোটি টাকা ছড়ানো হচ্ছে। ড্যাজেল ও সুমাস টেক-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে গত কয়েক মাসে বিক্রয়কর্মী হিসেবে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেকেই সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী। তারাই এখন ‘ব্যবসায়ী’ সেজে রাজপথ গরম করছে।

আওয়ামী লীগপন্থি এই সিন্ডিকেটটি প্রবাসীদের ভুল বুঝিয়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বন্ধ করার চেষ্টা করছে। তারা প্রচার করছে, এনইআইআর চালু হলে বিদেশ থেকে আনা ফোন বাজেয়াপ্ত হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি সরাসরি অর্থনৈতিক সাবোটাজ (Sabotage)। সরকার যাতে রাজস্ব না পায় এবং ডলার সংকটে পড়ে—সেটাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।

মোতালেব প্লাজার এক সাধারণ ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা এনইআইআর নিয়ে কিছু সংশোধনী চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি আমাদের আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে রাজনৈতিক লোকজন। আমাদের বলা হচ্ছে সরকার পতনের আন্দোলন করতে হবে। আমরা ব্যবসা করতে চাই, রাজনীতি নয়।”

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। আন্দোলনের ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অনেক অংশগ্রহণকারীর সঙ্গে মোবাইল ব্যবসার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তারা মূলত রাজনৈতিক কর্মী। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক দাবি শোনা হবে, কিন্তু ব্যবসার আড়ালে কেউ যদি রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






















