বিশ্বজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাজার এক বিশাল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক অর্থনৈতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-৩৫ সালের মধ্যে এ খাতের ব্যাপক প্রসার ঘটবে। আগামী বছর বৈশ্বিক সোশ্যাল মিডিয়া বাজারের আকার পৌঁছতে পারে ৮ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন বা প্রায় ৮৫০ কোটি ডলারে। পাশাপাশি আগামী নয় বছরে আকার বেড়ে ৫৩ দশমিক ৬২ বিলিয়ন বা ৫ হাজার ৩৬২ কোটি ডলারে পৌঁছবে। বাজার গবেষণা সংস্থা বিজনেস রিসার্চ ইনসাইটসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গত বছর অক্টোবর পর্যন্ত হালনাগাদ করা তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫২২ কোটি ছাড়িয়েছে, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৬৩ দশমিক ৮ শতাংশের সমান। অর্থাৎ পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ব্যবহার করে। ২০২৩ সালের পর সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ডিজিটাল মার্কেটিং ও ডাটা অ্যানালিটিকস প্রতিষ্ঠান কেপিওস।
যোগাযোগের প্রচলিত সংজ্ঞা বদলে দিয়ে ব্যক্তি ও সমাজের সেতুবন্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। আমাদের যাপিত জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এখন ফেসবুক, ইউটিউব কিংবা ইনস্টাগ্রামের মতো ডিজিটাল প্লাটফর্মগুলো। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফেসবুক। বর্তমানে ৩০৭ কোটিরও বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম ভার্চুয়াল সাম্রাজ্য হিসেবে নিজের আধিপত্য ধরে রেখেছে এ প্লাটফর্ম। ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপের পাশাপাশি মেসেজিং প্লাটফর্ম টেলিগ্রামের ব্যবহারও বাড়ছে। অ্যাপটির ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন ইউটিউবের এক-তৃতীয়াংশের সমান।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মানুষ এখন টিভি বা খবরের কাগজের তুলনায় ফোনে বেশি সময় কাটায়। ফলে বড় কোম্পানিগুলো বিজ্ঞাপনের বড় একটি বাজেট এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢালছে। ফলে এর বাজারের আকার বাড়ছে।
আবার অনলাইন কেনাকাটার একটি বড় অংশ ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে হচ্ছে। কেনাকাটার সহজ পদ্ধতিও বাজারের আকার বড় করছে। পাশাপাশি সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে মোবাইল ডিভাইসের সংখ্যা ৭০০ কোটি ছাড়িয়েছে। এর অর্থ হলো বিশ্বের প্রতি ১০ জনের মধ্যে অন্তত নয়জন মানুষের হাতে ফোন পৌঁছে গেছে। এ বিশালসংখ্যক ব্যবহারকারী সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোর আয় বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিডব্লিউএক্সের তথ্য বলছে, গড়ে একজন ব্যবহারকারী প্রতি মাসে অন্তত সাতটি ভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকেন। তাদের প্রতিদিন গড়ে ২ ঘণ্টা ১৯ মিনিট সময় কাটে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে। হিসাব করলে দেখা যায়, ঘুমের সময়টুকু বাদ দিলে মানুষের সচেতন জীবনের প্রায় ১৪ শতাংশ সময়ই দখল করে নিয়েছে এ ডিজিটাল জগৎ। বিশ্বজুড়ে মানুষের এ সম্মিলিত সময় ব্যবহারের পরিমাণ দৈনিক ১ হাজার ২০০ কোটি ঘণ্টারও বেশি।
বিজনেস ইনসাইটসের প্রতিবেদন বলছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ধরনের সেবা অন্তর্ভুক্ত, যেমন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং, মাইক্রোব্লগিং, ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং এবং ছবি শেয়ার করার প্লাটফর্ম। এসব সেবা খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা, পরিবহন, উৎপাদন, খাদ্য ও পানীয়, ব্যাংকিং, তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস, মিডিয়া ও বিনোদন, স্বাস্থ্যসেবাসহ আরো অনেক শিল্পে ব্যবহার হয়।






















