ভারত থেকে চোরাই পথে আনা বিপুল সংখ্যক অবৈধ মোবাইলফোন বিনা শুল্কে বৈধ করার দাবিতে কি আন্দোলনে নেমেছে এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। সেই সিন্ডিকেট প্রবাসীদের কেউ যুক্ত করার বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, নতুন ও রিফারবিশড মিলিয়ে অন্তত ৮ থেকে ১০ লাখ মোবাইলফোন বর্তমানে বিভিন্ন গুদামে মজুদ করে রেখেছে অবৈধ পথে আনা মোবাইল ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এই সিন্ডিকেট ভারত থেকে চোরাই পথে মোবাইল ফোন এনে দেশের বাজারে সরবরাহ করে আসছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ রিফারবিশড বা ব্যবহৃত ফোন, যা নতুন মোবাইল বলে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের একটি অংশ দাবি করছে, এনইআইআর (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার) চালুর ফলে এসব ফোন এখন নেটওয়ার্কে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তাই তারা বিনা শুল্কে বা বিশেষ সুবিধায় এসব ফোন বৈধ করার দাবিতে চাপ সৃষ্টি করছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে সভা-সমাবেশ ও আন্দোলনের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ আছে, এসব অবৈধ মোবাইল বিক্রির বিষয়ে কোনো ক্রেতা প্রতিবাদ করলে বা প্রশ্ন তুললে সংঘবদ্ধভাবে দোকানদাররা তার ওপর চড়াও হন। রাজধানীর কয়েকটি মোবাইল মার্কেটে ক্রেতাদের সঙ্গে দোকান কর্মচারীদের হাতাহাতি ও হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। এতে ভোক্তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবৈধভাবে আনা মোবাইল বৈধ করার সুযোগ দিলে তা বৈধ আমদানিকারক ও সৎ ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের বৈষম্য তৈরি করবে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতে চোরাচালানকে আরও উৎসাহিত করবে। তারা অবিলম্বে অবৈধ মজুদ ফোন জব্দ, সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।





















