বিশ্ববাজারে ২০২৬ সালে পিসি সরবরাহ বা বিক্রির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমবে। সবচেয়ে নেতিবাচক পরিস্থিতিতে বিক্রির পরিমাণ ৯ শতাংশ পর্যন্ত কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূলে থাকলেও বাজার ৫ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপের তীব্র সংকট পিসি বাজারকে আরো বড় সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গত অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হওয়া এ চিপ সংকট বর্তমানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলে জানিয়েছে আইডিসি।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্যানুযায়ী, এ পরিস্থিতি বজায় থাকলে কম্পিউটার উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রযুক্তি বিশ্বে মেমোরি চিপের বর্তমান সংকটের পেছনে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের আকাশচুম্বী চাহিদা। মূলত ২০২৫ সালের শেষভাগ থেকে এআই অবকাঠামো তৈরির হিড়িক চিপ বাজারের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে দিচ্ছে।
বিশ্বের শীর্ষ মেমোরি চিপ নির্মাতারা এখন সাধারণ গ্রাহকদের ব্যবহৃত পিসি বা ল্যাপটপের চিপ তৈরির পরিবর্তে বড় বড় এআই ডাটা সেন্টারের জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চ ক্ষমতার মেমোরি তৈরিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে এটি লাভজনক হওয়ায় নির্মাতারা কারখানার উৎপাদনক্ষমতা পিসি চিপ থেকে সরিয়ে এআই চিপের দিকে নিচ্ছে।
এদিকে স্মার্টফোন বাজারেও মেমোরি চিপের তীব্র সংকটের আঁচ লাগতে শুরু করেছে। বিশেষ করে মাঝারি বাজেটের স্মার্টফোনগুলোর ক্ষেত্রে এ প্রভাব হবে সবচেয়ে বেশি। গত এক দশক ধরে কম দামি ফোনেও ফ্ল্যাগশিপ মানের মেমোরি দেয়ার যে প্রবণতা ছিল, এ সংকটের কারণে তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
আইডিসির আশঙ্কা, ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন বিক্রির হারও ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
আইডিসির বিশ্লেষকদের মতে, মেমোরি চিপের তীব্র সংকট বর্তমানে পিসি বাজারের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনছে। সংকট এমন এক সময়ে এসেছে, যখন উইন্ডোজ ১০-এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে মানুষ নতুন কম্পিউটার কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বাজারে মাত্রই ‘এআই পিসির’ জোয়ার আসতে শুরু করেছে।






















