দেশে ‘ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার’ (NEIR) চালু হওয়া নিয়ে যে উত্তাপ ছড়ানো হচ্ছে, তার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র ও ব্যবসায়িক স্বার্থ কাজ করছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়ানো হলেও বাস্তব চিত্র বলছে, এনইআইআর মূলত সাধারণ গ্রাহক এবং প্রকৃত ব্যবসায়ীদের রক্ষাকবচ। তাহলে প্রশ্ন ওঠে, এই আন্দোলন আসলে কাদের স্বার্থে?
এনইআইআর নিয়ে একটি বড় আতঙ্ক হলো—আইফোন বা স্যামসাংয়ের প্রিমিয়াম ফোনগুলো আর পাওয়া যাবে না। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, একজন নাগরিক বিদেশ থেকে ফেরার সময় ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য দুটি ফোন শুল্কমুক্তভাবে আনতে পারেন। ফলে যারা টপ ফ্ল্যাগশিপ ফোন ব্যবহার করেন, তাদের একটি বড় অংশই নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণ করেন বা পরিচিতদের মাধ্যমে ফোনটি বৈধভাবেই সংগ্রহ করতে পারবেন। এমনকি ট্যুর এজেন্সিগুলোও পর্যটকদের মাধ্যমে আইনি সীমার মধ্যে থেকে এই ফোনগুলো আনার প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবে। অর্থাৎ, প্রিমিয়াম গ্রাহকদের ফোন ব্যবহারে কোনো বাধা নেই।
অনেকেই মনে করেন এনইআইআর মানেই কেবল দেশে তৈরি ফোন ব্যবহার করতে হবে। এটি ভুল ধারণা। যদি কোনো ফোন দেশে অফিসিয়ালি রিলিজ না হয়, তবে ব্যবসায়ীরা তা বৈধভাবে শুল্ক পরিশোধ করে দেশে এনে বিক্রি করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে রাজস্ব দেওয়ার কারণে দাম হয়তো ১৫-২০% বেশি হবে। কিন্তু এখানে সিদ্ধান্ত গ্রাহকের—তিনি কি দেশে তৈরি ফোন কিনবেন, না কি কিছুটা বেশি দাম দিয়ে বৈধভাবে আনা গ্লোবাল ভ্যারিয়েন্ট কিনবেন। এনইআইআর এখানে কেবল নিশ্চিত করছে যে, ফোনটি যেন চোরাই পথে না আসে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের ব্যবসার ধরন পরীক্ষা করলে বেরিয়ে আসছে আসল সত্য। মূলত তিনটি গোষ্ঠী এই আন্দোলনের পেছনে অর্থ ও জনবল যোগান দিচ্ছে: ১. চোরাই ফোন বিক্রেতা: এনইআইআর কার্যকর হলে চুরি যাওয়া ফোন আর অন্য কোনো সিমে চলবে না। ফলে চোরাই ফোনের বাজার পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। ২. রিফারবিশড (Refurbished) ফোন ব্যবসায়ী: পুরোনো নষ্ট ফোন ঘষামাজা করে যারা নতুনের দামে বিক্রি করে, তাদের এই জালিয়াতি এনইআইআর ডাটাবেজে ধরা পড়ে যাবে। ৩. নকল ফোন উৎপাদনকারী: যারা ক্লোন বা নকল ফোনকে আসল বলে বিক্রি করে, তারা এই সিস্টেমে কোনোভাবেই ফোনের আইএমইআই (IMEI) ম্যাচ করতে পারবে না।
আগে ফোন চুরি হলে মানুষ হাল ছেড়ে দিত। কিন্তু এনইআইআর চালু হওয়ার পর ফোন চুরি হলে তা মুহূর্তের মধ্যে দেশের সব নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন (Inactive) করে দেওয়া যাবে। ফলে ফোনটি চোরের কাছে কেবল একটি ‘কাঁচ ও প্লাস্টিকের টুকরো’ ছাড়া আর কিছুই থাকবে না।
যারা নিজেদের ‘ব্যবসায়ী’ পরিচয় দিচ্ছেন, তারা যদি নিয়ম মেনে ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা করেন, তবে এনইআইআর তাদের জন্য কোনো বাধা নয়। শুধু ‘চোরাকারবারি’ যারা, তাদের আগের মতো জালিয়াতি করার সুযোগ থাকবে না। সুতরাং, এই নিয়ম দেশের সার্বভৌমত্ব, অর্থনীতি এবং প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য একটি আশীর্বাদ।






















