দেশের মোবাইল খাতে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং ৯৬ হাজার কোটি টাকার অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণে বিটিআরসি-র ‘ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার’ (NEIR) নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুপরিকল্পিতভাবে কিছু গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই প্রচারণাগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।
এনইআইআর নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত ৫টি গুজবের সত্যতা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. গুজব: “২০ লাখ ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবে”
বাস্তবতা: এটি একটি বিশাল অতিরঞ্জন। রিটেইল সেন্সাস এবং বাজার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রে-মার্কেট বা অননুমোদিত চ্যানেলের সাথে যুক্ত খুচরা বিক্রেতার সংখ্যা আনুমানিক ১,৫০০ থেকে ২,০০০ জন—কোনোভাবেই ২০ লাখ নয়। মূলত বিশাল এই সংখ্যাটি ব্যবহার করে সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে একটি বিশেষ মহল।
২. গুজব: “এনইআইআর দিয়ে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট বা মনোপলি করা হচ্ছে”
বাস্তবতা: এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এনইআইআর কোনো একক কোম্পানি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, বরং এটি একটি ইন্ডাস্ট্রি-ওয়াইড কমপ্লায়েন্স। দেশের শীর্ষস্থানীয় সকল বৈধ ব্র্যান্ড যেমন—Xiaomi, Samsung, vivo, HTC, OPPO, realme, TECNO, Infinix, itel, OnePlus, ZTE, ও HONOR,walton আনুষ্ঠানিকভাবে এনইআইআর-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এটি মূলত বৈধ ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা দেওয়ার রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা।
৩. গুজব: “এনইআইআর সার্ভার ভারতে অবস্থিত”
বাস্তবতা: এটি একটি স্পর্শকাতর গুজব যা দেশপ্রেমকে পুঁজি করে ছড়ানো হচ্ছে। প্রকৃত সত্য হলো, এনইআইআর সিস্টেমের সার্ভার সম্পূর্ণভাবে বিটিআরসি (BTRC) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং এর অবকাঠামো বাংলাদেশের ভেতরেই অবস্থিত। নাগরিকদের তথ্যের সুরক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করেই এই সিস্টেম পরিচালিত হয়।
৪. গুজব: “ফোনের দাম বেড়েছে কেবল ট্যাক্সের কারণে”
বাস্তবতা: ফোনের দাম বাড়ার পেছনে কেবল ভ্যাট-ট্যাক্স দায়ী নয়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চিপসেট ও মেমোরি কস্ট বৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হার (Foreign Exchange) এবং আন্তর্জাতিক সাপ্লাই-চেইন সংকটের কারণে সামগ্রিকভাবে ডিভাইসের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। অথচ একতরফাভাবে কেবল ট্যাক্সকে দায়ী করে এনইআইআর-এর বিরোধিতা করা হচ্ছে।
৫. ব্যক্তিগত আক্রমণ ও মানহানি
এনইআইআর-এর সমর্থনকারীদের লক্ষ্য করে সামাজিক মাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও মানহানিকর বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এনইআইআর কোনো ব্যক্তিগত কোম্পানি নয়, এটি একটি রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সরকারি সিস্টেম। নীতি নিয়ে বিতর্ক তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে হওয়া উচিত, কিন্তু ব্যক্তির সম্মানহানি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
৯৬ হাজার কোটি টাকার অবৈধ বাজার রক্ষা এবং চোরাচালান সিন্ডিকেটের স্বার্থ হাস হাসিল করতেই এই গুজবগুলো ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এনইআইআর মূলত চুরির ফোন বন্ধ, ডিজিটাল জালিয়াতি রোধ এবং দেশের অর্থনীতিকে সুসংহত করার একটি আধুনিক পদক্ষেপ। গুজব এড়িয়ে সঠিক তথ্য জানতে বিটিআরসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তিবিদরা।






















