অ্যাপল এ প্রথম বাজারে ফোল্ডেবল বা ভাঁজ করা যায় এমন আইফোন আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, নতুন এ আইফোনে ‘লিকুইড মেটাল’ বা তরল ধাতু ব্যবহার করা হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার অনলাইন প্লাটফর্ম নেভারের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মূলত আইফোন ফোল্ডের হিঞ্জ বা যে অংশটি ভাঁজ হয়, সেখানে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের সঙ্গে এ নতুন ফোনটি উন্মোচন করা হতে পারে।
লিকুইড মেটাল হলো এমন একটি ধাতব সংকর যা সাধারণ স্টেইনলেস স্টিলের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও টেকসই। এটি ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষকদের তৈরি একটি বিশেষ উপাদান। এর কোনো নির্দিষ্ট দানাদার গঠন না থাকায় বারবার ভাঁজ করার ফলে সৃষ্ট চাপ এটি অনায়াসেই সহ্য করতে পারে। ফোল্ডেবল ফোনের ক্ষেত্রে হিঞ্জ বা ভাঁজের স্থান সবচেয়ে দুর্বল অংশ হয়ে থাকে। আর লিকুইড মেটাল ব্যবহারের ফলে এ সমস্যা সহজেই দূর করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রচলিত ধাতব উপাদান ব্যবহারে ফোনের ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে লিকুইড মেটাল ওজনে অনেক হালকা হওয়া সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় দৃঢ়তা নিশ্চিত করতে পারে। অ্যাপল এ ডিভাইসের মূল বডি টাইটানিয়াম দিয়ে তৈরি করতে পারে। তবে হিঞ্জে লিকুইড মেটাল ব্যবহার করে একে আরো পাতলা করার পরিকল্পনা করছে। আইফোন ফোল্ড ফোনটি খোলার পর এর পুরুত্ব ৫ দশমিক ৬ মিলিমিটারের চেয়েও কম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নতুন এ আইফোন ফোল্ডের ডিসপ্লেতে ৫ দশমিক ৫ ইঞ্চির বাইরের স্ক্রিন এবং ৭ দশমিক ৮ ইঞ্চির ভেতরের স্ক্রিন থাকতে পারে। দুটি ডিসপ্লেই হাই রিফ্রেশ রেটের ওএলইডি প্যানেল ব্যবহার করা হবে। ফোনটিতে ফেস শনাক্তকরণ প্রযুক্তি বাদ দিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্তকরণ সেন্সর বা টাচ আইডি সেন্সর দেয়া হতে পারে। ক্যামেরা হিসেবে এতে মোট চারটি ক্যামেরা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিটি স্ক্রিনের জন্য একটি করে সেলফি ক্যামেরা ও পেছনে দুটি ক্যামেরা।
এতে পরবর্তী প্রজন্মের এ২০ প্রো চিপসেট ব্যবহার করা হবে, যা আইফোন ১৭ প্রো মডেলের এ১৯ প্রো চিপের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী বলে দাবি করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন ফোল্ডের দাম হতে পারে প্রায় ২ হাজার ৪০০ ডলার।”
অ্যাপলের লিকুইড মেটাল নিয়ে কাজের ইতিহাস নতুন নয়। ২০১০ সাল থেকেই অ্যাপল লিকুইড মেটাল টেকনোলজির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এ উপাদানের স্বত্ব কিনে রেখেছে। আগে সিম ইজেক্টর টুলের মতো ছোট অংশে এটি ব্যবহার করা হলেও বড় পরিসরে ব্যবহারের চ্যালেঞ্জ ছিল, এখন তা কাটিয়ে উঠেছে কোম্পানিটি।






















