তাইওয়ানের প্রযুক্তিখাতের মেধাসম্পদ ও দক্ষ প্রকৌশলীদের অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে বিশ্বখ্যাত স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ওয়ানপ্লাস (OnePlus)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পিট লাউ-এর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা। একইসঙ্গে লাউয়ের অধীনে কাজ করা দুই তাইওয়ানিজ নাগরিককেও এই ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
শিলিন জেলা প্রসিকিউটর অফিসের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ অনুযায়ী, ওয়ানপ্লাস কর্তৃপক্ষ ২০১৫ সালে হংকংয়ে একটি নামসর্বস্ব বা ‘শেল কোম্পানি’ গঠন করে। এই ভুয়া কোম্পানির আড়ালে তাইওয়ান সরকারের কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই সেখানে একটি শাখা খোলা হয়। এই গোপন শাখাটি মূলত ওয়ানপ্লাসের মোবাইল ফোনের গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) এবং উন্নত চিপ ডিজাইন বা হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ করত।
তাইওয়ান কর্মকর্তাদের দাবি, ওয়ানপ্লাস কর্তৃপক্ষ দেশটির ‘ক্রস-স্ট্রেট অ্যাক্ট’ (Cross-Strait Act) নামক কঠোর আইনটি লঙ্ঘন করেছে। এই আইন অনুযায়ী, মূল ভূখণ্ড চীনের কোনো কোম্পানি যদি তাইওয়ানে ব্যবসা করতে চায় বা কর্মী নিয়োগ করতে চায়, তবে সরকারের বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। ওয়ানপ্লাস সেই নিয়ম তোয়াক্কা না করেই তাইওয়ান থেকে ৭০ জনেরও বেশি দক্ষ প্রকৌশলীকে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরের এই নথিপত্রটি গত মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো প্রকাশ পায়। ওয়ানপ্লাস বর্তমানে চীনের অন্যতম জায়ান্ট কোম্পানি অপো (Oppo)-র একটি স্বতন্ত্র সাব-ব্র্যান্ড। তাইওয়ান কর্তৃপক্ষের অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ওয়ানপ্লাস বা অপো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। পিট লাউয়ের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
চীন ও তাইওয়ানের মধ্যকার বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করলেও তাইপেই তা বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাইওয়ানের উন্নত সেমিকন্ডাক্টর এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা চীনকে সবসময়ই আকর্ষণ করে। তবে মেধাপাচার এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাইওয়ান কর্তৃপক্ষ এখন চীনা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।






















