দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আজ বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীসহ সারা দেশের মোবাইল ফোন মার্কেটগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে। ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) বা মোবাইল নিবন্ধন ব্যবস্থার প্রতিবাদে দোকানপাট বন্ধ রাখলেও হাইকোর্টের এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার নির্দেশনায় ব্যবসায়ীরা পুনরায় শোরুম খোলার সিদ্ধান্ত নেন। তবে বাজারে ফিরে ক্রেতাদের মাঝে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া এবং অনেক ক্ষেত্রে তীব্র ক্ষোভ।
রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, মোতালেব প্লাজা এবং যমুনা ফিউচার পার্কের মতো বড় মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই ক্রেতারা ভিড় করছেন। দীর্ঘদিন দোকান বন্ধ থাকায় যারা অনলাইনে ফোন কিনতে ভরসা পাননি, তারা সরাসরি দোকানে এসে ফোন পরখ করে দেখছেন।
আন্দোলনকারী ব্যবসায়ীদের দাবি, অফিশিয়াল আমদানিকারকরা ‘সিন্ডিকেট’ করে হ্যান্ডসেটের দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে মোবাইল ফোন। তাদের যুক্তি, এনইআইআর ব্যবস্থা মূলত এই সিন্ডিকেটকে একচেটিয়া ব্যবসা করার সুযোগ করে দিচ্ছে। অন্যদিকে, বৈধ আমদানিকারকদের সংগঠন এমআইওবি (MIOB) এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, ডলারের দাম বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধির কারণেই দাম কিছুটা বেড়েছে। তাদের পাল্টা অভিযোগ, এনইআইআর বন্ধের আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছে চোরাচালানকারী চক্র, যারা সরকারকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করছে।

দোকান খোলার পর অনেক ক্রেতা অভিযোগ করেছেন যে, আন্দোলনের আগে ব্যবসায়ীরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বর্তমানে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী দাবি করেছিলেন তারা সস্তায় ফোন দেবেন, কিন্তু বাস্তবে দোকান খোলার পর আগের চেয়েও বেশি দাম হাঁকা হচ্ছে। অবৈধ বা আন-অফিশিয়াল ফোন কিনলে তা ভবিষ্যতে বন্ধ হবে না—এমন গ্যারান্টি দোকানদাররা দিলেও অনেক ক্রেতাই এখন তা বিশ্বাস করতে পারছেন না। বন্ধ থাকার সময় যারা ফোন কিনে সমস্যায় পড়েছিলেন, আজ দোকানে এসেও তারা সঠিক সার্ভিস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
মিরপুর থেকে আসা এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তারা (ব্যবসায়ীরা) আন্দোলনের সময় বলেছিল সাধারণ মানুষের জন্য লড়াই করছে। কিন্তু এখন দোকানে এসে দেখি ফোনের দাম অফিশিয়াল ফোনের কাছাকাছি, অথচ কোনো ওয়ারেন্টি নেই। এটা স্রেফ সিন্ডিকেট বদলানোর খেলা ছাড়া আর কিছু নয়।”
মোবাইল ফোন কিনতে আসা সাইফুল ইসলাম নামের একজন গ্রাহক বলেন আন্দোলনের সময় বিভিন্ন দোকানের ফেসবুক পেইজে দেখেছি তারা প্রচার করতেছিল একটি সিন্ডিকেট দেশের মোবাইল ফোনের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে তাই তারা আন্দোলন করতেছে কিন্তু তাদের দোকানগুলোতে এখন মোবাইল ফোনের দাম ২ থেকে ১২ হাজার টাকা বেশি চাচ্ছে। তাহলে তারা এতদিন আন্দোলন করলো তাদের জন্য।
আইফোন কিনতে আসা তামিম হোসেন জানান তিনি আইফোন ১৪ প্রো কিনতে এসেছিলেন। বাজারে ফোনটির দাম আগের দামের থেকে ৯৫০০ টাকা বেশি। যেহেতু তারা আন্দোলন করার সময় বলতে ছিল মোবাইল ফোনের দাম বৃদ্ধি নিয়ে তারা জনগণের জন্য আন্দোলন করতেছে তাহলে তাদের ফোনের দাম বাড়লো কেন যে ফোনটি তাদের আগে থেকেই স্টকে ছিল।
হাইকোর্ট এনইআইআর সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সরকারকে এক মাস সময় দিয়েছে। এই এক মাস ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারলেও, অবৈধ ফোনের ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে এখনো পরিষ্কার কোনো বার্তা নেই। বিটিআরসি জানিয়েছে, অবৈধ বা ক্লোন করা আইএমইআই (IMEI) যুক্ত ফোনগুলো যেকোনো সময় নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হতে পারে।





















