দীর্ঘ দুই মাস ধরে চলা এনইআইআর (NEIR) বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে পুলিশের লাঠিপেটা আর রোদে পুড়ে যারা আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন, সেই সাধারণ কর্মচারীরাই এখন চরম অবহেলার শিকার। দোকান খোলার পর ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু হলেও ‘অবৈধ’ মোবাইল ব্যবসায়ীরা এখন তাদের কর্মচারীদের বেতন দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন অথবা অর্ধেক বেতন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই নিয়ে মোবাইল মার্কেটগুলোর ভেতরে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আন্দোলনের সময় ব্যবসায়ীরা দাবি করেছিলেন এটি তাদের ‘রুটি-রুজির’ লড়াই। মালিকদের এই কথায় আশ্বস্ত হয়ে দোকানের হাজার হাজার কর্মচারী গত দুই মাস ধরে দোকান বন্ধ রেখে রাজপথে আন্দোলনে সামিল হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা থেকে শুরু করে মিছিল-মিটিংয়ে এসব কর্মচারীরাই ছিলেন মূল শক্তি। কিন্তু এখন বেতন চাওয়ার সময় মালিকরা তাদের ব্যবসা ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ হওয়ার দোহাই দিচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সেলসম্যান বলেন, “আন্দোলনের সময় মালিকদের পাশে সবসময় থেকেছি। পুলিশের মার খেয়েছি, রোদে পুড়েছি। নিজের প্রতিষ্ঠান মনে করে আন্দোলনকে সফল করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন মালিক বলছেন, ব্যবসা হয়নি তাই অর্ধেকের বেশি বেতন দিতে পারবেন না। আমরা যারা মাস শেষে এই বেতনের ওপর নির্ভর করি, আমাদের সংসার এখন কীভাবে চলবে?”
আরেকজন কর্মচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া থেকে শুরু করে মাঠে নামা—সবই করেছি মালিকদের স্বার্থে। এখন আন্দোলন শেষ হতেই তারা তাদের রূপ পরিবর্তন করেছেন। আমাদের সাথে বড় ধরণের প্রতারণা করা হয়েছে।”
অনেক দোকানের মালিকরা দাবি করছেন, টানা দুই মাস দোকান বন্ধ থাকায় তারা আর্থিকভাবে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। দোকান ভাড়া এবং ব্যাংক ঋণের কিস্তির চাপ থাকায় তারা পুরো বেতন দিতে পারছেন না। তবে কর্মচারীদের অভিযোগ, যারা হাজার হাজার কোটি টাকার অবৈধ ফোনের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন, তারা সামান্য কর্মচারীদের বেতন দিতে গড়িমসি করছেন মূলত তাদের স্বার্থপরতার কারণে।






















