বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ডাটা সেন্টারে ব্যবহৃত চিপের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে সেমিকন্ডাক্টর জায়ান্ট ইন্টেল। সম্প্রতি কোম্পানিটি বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) আয় ও মুনাফার যে পূর্বাভাস দিয়েছে, তা বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। পূর্বাভাসে উঠে আসা প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় ইন্টেলের শেয়ারদর কমেছে ১৩ শতাংশ।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইন্টেলের বর্তমান পরিস্থিতি চিপ বাজারের অস্থিরতাকে স্পষ্ট করে তুলছে। কোম্পানিটির নিজস্ব কারখানা থাকা সত্ত্বেও পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারছে না।
বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) লিপ-বু তান বলেন, ‘বর্তমানে বাজারের চাহিদা পুরোপুরি মেটাতে না পারাটা আমাদের জন্য হতাশাজনক। আমাদের কারখানাগুলো এখন সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতায় চললেও এআই ডাটা সেন্টারের জন্য প্রয়োজনীয় সার্ভার চিপের (সিপিইউ) যে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে, ইন্টেল তা সময়মতো সরবরাহ করতে পারছে না।’
ইন্টেলের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ডেভিড জিন্সনার বলেন, ‘পুরনো নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা উন্নত করতে গিয়ে হঠাৎ করেই এআই-নির্ভর শক্তিশালী চিপের ব্যাপক চাহিদার কথা জানিয়েছে অনেক ক্লাউড কম্পিউটিং কোম্পানি। আকস্মিক এ পরিস্থিতির জন্য ইন্টেল প্রস্তুত ছিল না। ফলে ডাটা সেন্টারে চিপ বিক্রির বড় সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে কোম্পানিটির।’
বর্তমানে ডাটা সেন্টারগুলোয় এনভিডিয়ার গ্র্যাফিকস প্রসেসিং ইউনিটের (জিপিইউ) পাশাপাশি ইন্টেলের তৈরি সাধারণ সার্ভার চিপও ব্যবহার করা হয়। তবে নিজস্ব কারখানা থাকা সত্ত্বেও দ্রুত চিপের ধরন পরিবর্তন করতে পারছে না ইন্টেল। কারণ একটি নতুন প্রজন্মের চিপ তৈরির পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত কয়েক বছর আগেই নিতে হয়। বর্তমানে কোম্পানিটির পরবর্তী প্রজন্মের ‘প্যান্থার লেক’ পিসি চিপ ও ‘১৮এ’ নামক নতুন উৎপাদন প্রযুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এ প্রযুক্তিতে ত্রুটিমুক্ত বা ব্যবহারের উপযোগী চিপ তৈরির হার এখনো প্রত্যাশার চেয়ে কম।
চিপের বাজারে ইন্টেল এখন দুই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। একদিকে তারা ডাটা সেন্টারের প্রয়োজনীয় চিপ সময়মতো সরবরাহ করতে পারছে না। অন্যদিকে ব্যক্তিগত কম্পিউটার বা পিসির বাজারে এএমডি ও আর্মের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোর কাছে ব্যবসা হারাচ্ছে তারা। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপের সংকট চলায় পিসির দাম বেড়ে গেছে, যা ইন্টেলের মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, ব্যবসায়িক মন্দা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে ইন্টেল যেসব নতুন কৌশল নিয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে কাজে আসবে। বিশেষ করে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের ‘১৪এ’ নামক চিপ উৎপাদন প্রযুক্তির জন্য বড় কোনো গ্রাহক পাওয়া গেলে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা আবার শক্তিশালী হবে। তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চিপ সরবরাহের বর্তমান সংকটের কারণে ইন্টেলের ব্যবসায়িক অবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরো কিছুটা সময় লাগতে পারে।




















