আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের সীমান্ত এলাকাগুলোতে অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেট চোরাচালানের এক ভয়ংকর স্বর্গরাজ্য গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি এবং সিলেটের দুর্গম সীমান্ত পথ ব্যবহার করে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার দামী স্মার্টফোন অবৈধভাবে দেশে ঢুকছে। এই অবৈধ কারবারের ফলে সরকার প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, আর ঝুঁকির মুখে পড়ছে দেশীয় মোবাইল শিল্প।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা ও খাগড়াছড়ি সীমান্ত দিয়ে মূলত পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ আইফোনসহ দামী ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন পাচার হয়ে আসছে। অন্যদিকে, সিলেট সীমান্ত দিয়েও আসছে দামী সব হ্যান্ডসেট। পাহাড়ি দুর্গম পথ এবং সীমান্তের কাঁটাতারের ফাঁক গলে এই ফোনগুলো সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে রাজধানীর মোতালেব প্লাজা ও ইস্টার্ন প্লাজার মতো বড় বড় মার্কেটে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই চোরাচালান প্রক্রিয়ার সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও অসাধু কিছু কর্মকর্তা জড়িত। প্রতিদিন শত শত কার্টনে ভরা অবৈধ হ্যান্ডসেট ছোট ছোট দলে ভাগ করে নদীপথ বা পাহাড়ী রাস্তা দিয়ে পাচার করা হয়। পাচারকারীরা মূলত শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অধিক মুনাফার আশায় এই পথ বেছে নেয়। এতে প্রতিটি ফোনে সরকারের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ভ্যাট ও ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অবৈধ পথে আসা ফোনগুলোর কোনো আইএমইআই (IMEI) ডাটাবেজ বিটিআরসির কাছে থাকে না। ফলে এই ফোনগুলো ব্যবহার করে যদি কোনো বড় ধরণের অপরাধ বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানো হয়, তবে অপরাধীদের শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব।
একইসঙ্গে দেশে যারা বৈধভাবে কারখানা স্থাপন করে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন, তারা এই অসম প্রতিযোগিতায় লোকসানের মুখে পড়ছেন। বৈধ ব্যবসায়ীরা বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দিলেও অবৈধ ফোনের দাপটে তাদের বাজার এখন সংকুচিত।
সিটিটিসি এবং বিটিআরসির কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই চোরাচালান বন্ধের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) বা মোবাইল নিবন্ধন ব্যবস্থা শতভাগ কার্যকর করা। এটি চালু হলে অবৈধ পথে আসা কোনো ফোন দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে সচল থাকবে না, ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চোরাচালান বন্ধ হয়ে যাবে।






















