কিশোরদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির ক্ষমতাসীন জোটের এক পার্লামেন্ট সদস্য। বৈশ্বিকভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে যখন আলোচনা তীব্র হচ্ছে, ঠিক তখনই বিশ্বের অন্যতম বড় ডিজিটাল বাজার ভারতে এ ধরনের প্রস্তাব নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হলে ভারতে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খোলা বা ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ হতে পারে। খবর রয়টার্স।
লোকসভায় অন্ধ্রপ্রদেশভিত্তিক তেলেগু দেশম পার্টির এমপি এলএসকে দেবরায়ালু সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বয়সভিত্তিক সীমা ও অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বিল প্রস্তাব করেছেন। ‘সোশ্যাল মিডিয়া (এজ রেস্ট্রিকশনস অ্যান্ড অনলাইন সেফটি)’ শীর্ষক ১৫ পৃষ্ঠার এ বিলে বলা হয়েছে, ১৬ বছরের কম বয়সী কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খুলতে বা ব্যবহার করতে পারবে না। এ নিয়ম কেউ ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করার নির্দেশনা রাখা হয়েছে। ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টাও ডিজিটাল আসক্তি কমাতে বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধের পক্ষে মত দিয়েছেন।
দেবরায়ালুর দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছে ভারতের শিশুরা। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভারত বর্তমানে বিদেশী ডিজিটাল প্লাটফর্মগুলোর জন্য বিশ্বের অন্যতম বড় তথ্য উৎপাদনকারী দেশ। এসব তথ্য ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবস্থা তৈরি করছে। অথচ ভারতীয় ব্যবহারকারীরা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই তথ্য দিচ্ছেন। আর এর কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সুফল ভোগ করছে অন্য দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলো।
এদিকে প্রস্তাবিত ও বিলে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের পুরো দায় সোশ্যাল মিডিয়া পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দেয়ার কথা বলা হয়েছে। দেবরায়ালুর মতে, বয়স যাচাইয়ের দায়িত্ব ব্যবহারকারীর নয়। এক্ষেত্রে বরং প্লাটফর্মগুলোকেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
যদিও মেটা, অ্যালফাবেট (ইউটিউব) ও এক্স এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে মেটা আগে জানিয়েছিল, তারা অভিভাবকীয় তত্ত্বাবধানের আইন সমর্থন করে। তবে মেটা সতর্ক করেছে, ঢালাও নিষেধাজ্ঞা শিশুদের আরো অনিরাপদ ও অনিয়ন্ত্রিত সাইটগুলোর দিকে ঠেলে দিতে পারে। তবে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সম্প্রতি বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করেছে অস্ট্রেলিয়া। এ সিদ্ধান্তকে অনেক অভিভাবক ও শিশু অধিকারকর্মী স্বাগত জানালেও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এর সমালোচনাও করেছে। এছাড়া ফ্রান্সের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য এ নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেছে। ব্রিটেন, ডেনমার্ক ও গ্রিসও বর্তমানে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।





















