অ্যান্ড্রয়েড দুনিয়ায় গুগল পিক্সেল ১০-কে মনে করা হয় গুগলের ‘শো-কেস’ বা সেরা উদ্ভাবনের নিদর্শন। কিন্তু যখনই স্পিড বা গতির প্রশ্ন আসে, তখন বাজারের সবচেয়ে শক্তিশালী ফোনের তালিকায় পিক্সেল ১০-এর নাম অনেক নিচে মিলবে।
২০২৬ সালের শুরুতে যারা বাজারের সবচেয়ে শক্তিশালী অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন খুঁজছেন, তাদের জন্য পিক্সেল ১০-এর বাইরে আরো কয়েকটি দুর্দান্ত বিকল্প নিয়ে আলোচনা করেছে প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম স্ল্যাশগিয়ার।
দামের তুলনায় পারফরম্যান্স বা গতির ওপর ভিত্তি করে সেরা তিনটি ফোনের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৫
গত বছরের শুরুর দিকে বাজারে আসা স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৫ সিরিজটি গুগল পিক্সেল ১০-এর প্রায় ছয় মাস আগে বাজারে আসে। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে পুরনো হলেও পারফরম্যান্সের লড়াইয়ে ফোনটি গুগল ফ্ল্যাগশিপকে অনায়াসেই টেক্কা দিচ্ছে। গ্যালাক্সি এস২৫-এর সাধারণ মডেল থেকে শুরু করে প্রিমিয়াম আল্ট্রাসহ সবগুলোতেই ব্যবহার হয়েছে কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট চিপসেট, যা গত বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রসেসর হিসেবে পরিচিত। গুগল মূলত টেনসর জি৫ চিপটি তৈরিই করেছে এআইকে প্রাধান্য দিয়ে। আর এআই সক্ষমতা বাড়াতে গিয়েই গুগলকে ছাড় দিতে হয়েছে থ্রিডি গ্রাফিকস বা গেমিংয়ের গতিতে। তাই কেউ যদি প্রচুর পরিমাণে এআই ফিচার ব্যবহার করতে চান, তবে পিক্সেল ১০ তার জন্য হবে সেরা ফোন। কিন্তু যদি গেম খেলা বা একসঙ্গে অনেকগুলো বড় অ্যাপ চালানোর মতো ‘পাওয়ার ইউজার’ হন, তবে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৫ সিরিজই এক ধাপ এগিয়ে থাকবে।
ওয়ানপ্লাস ১৫
তালিকার বাকি ফোনগুলোকে পিক্সেল ১০-এর সঙ্গে তুলনা করাটা অনেকটা ‘চিটিং’ বা অন্যায্য মনে হতে পারে। কারণ এসব ফোনের মূলে রয়েছে কোয়ালকমের একদম নতুন স্ন্যাপড্রাগন ৮ জেন ৫ প্রসেসর। এটি গত বছরের সেই তুখোড় ‘স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট’-এর উত্তরসূরি। কোনো ল্যাগ বা ধীরগতি ছাড়া অতি দ্রুত স্মার্টফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা চাইলে বেছে নিতে হবে ওয়ানপ্লাস ১৫। অনেকের মতে, নতুন প্রসেসরের বদৌলতে এটি কেবল পিক্সেল ১০-কে হারায়নি, বরং স্মার্টফোনের গতির সংজ্ঞাকেই লিখেছে নতুন করে।
শাওমি ১৭ প্রো ম্যাক্স
গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শেষের দিকে স্মার্টফোনপ্রেমীদের মধ্যে বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছিল শাওমি ১৭ সিরিজ। এ উত্তেজনার প্রধানত দুটি কারণ ছিল। প্রথমত, অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি দেখতে অনেকটা আইফোন ১৭ সিরিজের মতো; আর দ্বিতীয়ত অনেক বিশ্লেষকের মতে, বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ফিচারে স্মার্টফোনটি আইফোনকেও ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৬ সালের ফ্ল্যাগশিপ স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী এতে আছে স্ন্যাপড্রাগন ৮ জেন ৫ চিপ। সঙ্গে আছে সর্বোচ্চ ১৬ জিবি র্যাম, যা স্পিডের লড়াইয়ে পিক্সেল ১০ ফোনকে সহজেই হারিয়ে দেয়। এছাড়া পিক্সেল ১০-এর ক্যামেরায় ৪৮ মেগাপিক্সেল মূল, ১৩ মেগাপিক্সেল আল্ট্রাওয়াইড এবং ১০ দশমিক ৮ মেগাপিক্সেল টেলিফটো লেন্স ব্যবহার হয়েছে। অন্যদিকে শাওমি দিচ্ছে তিনটি ৫০ মেগাপিক্সেলের শক্তিশালী সেন্সর। পাশাপাশি শাওমির ফোনে ব্যবহার হয়েছে বিশাল ৭ হাজার ৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার (এমএএইচ) সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি। এদিকে গুগল পিক্সেলে আছে ৪ হাজার ৯৭০ এমএএইচ লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি।






















