রাজধানীর উত্তরায় দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘স্টার টেক’ (Star Tech)-এর বিরুদ্ধে ৯২ হাজার টাকা মূল্যের ল্যাপটপ বিক্রি করে গ্রাহককে চরম হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। শখ করে দামী ল্যাপটপ কিনে মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে দুবার যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হয়ে এখন শোরুম আর সার্ভিস সেন্টারের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এক ভুক্তভোগী ক্রেতা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ জানুয়ারি স্টার টেকের উত্তরা ব্রাঞ্চ থেকে ৯২ হাজার টাকা দিয়ে একটি ‘Lenovo IdeaPad Slim 5’ ল্যাপটপ কেনেন এক ভুক্তভোগী। বাসায় নেওয়ার পরই ল্যাপটপটির ট্র্যাকপ্যাডে (Trackpad) সমস্যা ধরা পড়ে। ৩ ফেব্রুয়ারি শোরুমে নিয়ে গেলে তারা ত্রুটি স্বীকার করে ল্যাপটপটি পরিবর্তন (Replacement) করে দেয়। কিন্তু বিড়ম্বনার সেখানেই শেষ নয়। ৯ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ল্যাপটপটিতেও নতুন সমস্যা দেখা দেয়—ক্যামেরার বেজেল (Bezel) আলগা হয়ে আসা। যেখানে ল্যাপটপটি ২১টি মিলিটারি স্ট্যান্ডার্ড টেস্ট পাস করার দাবিদার, সেখানে এমন নিম্নমানের বিল্ড কোয়ালিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ওই ক্রেতা।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, দ্বিতীয়বার সমস্যা নিয়ে শোরুমে গেলে টেকনিশিয়ান বেজেলটি হাত দিয়ে জোরে চেপে বসিয়ে দিয়ে ‘ঠিক হয়েছে’ বলে দায় সারেন। কিন্তু পরদিন আবারও একই সমস্যা দেখা দিলে স্টার টেক কর্তৃপক্ষ ল্যাপটপ পরিবর্তন করতে সরাসরি অস্বীকার করে। বিক্রেতা সাফ জানিয়ে দেন, “প্রথমবার পরিবর্তন করে দিয়েছি, দ্বিতীয়টি আর আমাদের হাতে নেই।” এখন ৯২ হাজার টাকা খরচ করে নতুন ল্যাপটপ কিনেও সেটি ২১ দিনের জন্য সার্ভিস সেন্টারে জমা রাখার পরামর্শ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
ক্রেতার দাবি, এক সপ্তাহের মধ্যে দুবার ম্যানুফ্যাকচারিং ডিফেক্ট পাওয়ার পর ২১ দিন অপেক্ষা করা একজন সাধারণ গ্রাহকের জন্য মানসিক ও আর্থিক হয়রানি। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ পণ্য শনাক্ত হলে তা পরিবর্তন বা রিফান্ড পাওয়ার অধিকার গ্রাহকের রয়েছে। কিন্তু স্টার টেকের মতো বড় শপ এখন কাস্টমারদের হাতে ‘ডিফেক্টিভ ল্যাপটপ’ গছিয়ে দিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ক্ষুব্ধ ক্রেতা জানান, “আমি কি নতুন ল্যাপটপ কিনেছি নাকি কয়েকদিন পর পর সার্ভিস সেন্টারে যাওয়ার জন্য টাকা দিয়েছি? আমি এই ত্রুটিপূর্ণ ল্যাপটপ আর ব্যবহার করতে চাই না। আমাকে হয় রিফান্ড দেওয়া হোক অথবা অন্য কোনো মডেলের সাথে অ্যাডজাস্ট করার সুযোগ দেওয়া হোক।”






















