দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘স্টার টেক’ (Star Tech)-এর বিরুদ্ধে শত শত গ্রাহককে হয়রানি ও প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ওয়ারেন্টির নামে টালবাহানা, রিফান্ডের ক্ষেত্রে অর্থ আত্মসাৎ, এবং নতুন পণ্যের দামে ‘রিফারবিশড’ বা পুরনো পণ্য বিক্রির মতো স্পর্শকাতর তথ্য সামনে এনেছেন ভুক্তভোগী ক্রেতারা। প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয়োত্তর সেবার বেহাল দশা এবং কর্মকর্তাদের দুর্ব্যবহারে ক্ষুব্ধ প্রযুক্তিপ্রেমীরা এখন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।
অসংখ্য গ্রাহকের অভিযোগ, পণ্য ওয়ারেন্টিতে দেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি তা মেরামত বা পরিবর্তন না করে উল্টো রিফান্ড নেওয়ার জন্য চাপ দেয়। তুহিন কামাল ইসলাম নামের এক গ্রাহক জানান, ডিসেম্বরে দেওয়া র্যামের ওয়ারেন্টি নিয়ে দুই মাস ঘোরানোর পর এখন তাকে রিফান্ড নিতে বলা হচ্ছে, কারণ বর্তমানে বাজারে র্যামের দাম বেড়ে গেছে।
একই ধরণের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানান আমিনুন হাসান মাহিন। ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা দিয়ে পিসি বিল্ড করার পর জিপিইউ (GPU) নষ্ট হলে এক মাস পর তাকে জানানো হয় এটি মেরামত সম্ভব নয় এবং কেনা দামের মাত্র ৫০ শতাংশ টাকা রিফান্ড দেওয়া হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “অফিশিয়াল প্রোডাক্ট কিনেও আমি কেন ১৪,৫০০ টাকা কম নিব?” স্যামসাং এসএসডি-র ক্ষেত্রেও তাকে একইভাবে অর্ধেক টাকা রিফান্ড দিয়ে লোকসানে ফেলা হয়েছে বলে তিনি জানান।
গ্রাহক রাকিব ইমতিয়াজ অভিযোগ করেছেন, স্টার টেক অনেক ক্ষেত্রে ‘রিফারবিশড’ বা পূর্বে ব্যবহৃত পণ্য নতুনের দামে বিক্রি করছে। বিষয়টি জানাজানি হলে বা চাপ প্রয়োগ করলে পণ্যের উৎস নিয়ে অস্পষ্টতার অজুহাত দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
ইয়াসিন আরাফাত নামের আরেক ক্রেতা জানান, নতুন ল্যাপটপ কেনার মাত্র ২ মাসের মধ্যে মাদারবোর্ড নষ্ট হয়। দুই মাস ঘোরানোর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হলে তবেই তারা ব্যবস্থা নেয়।

আসুস ওয়াইফাই রাউটার কিনে কোনো সার্ভিস না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন মোহাম্মদ এমরানুজ্জামান মুসাদ্দেক। লেনেভো ল্যাপটপ নিয়ে ভোগান্তির কথা জানান সৈয়দ মুরসালিন হোসেন। গ্রাহকদের মতে, স্টার টেকের কর্মচারীদের অপেশাদার আচরণ এবং তুচ্ছ অজুহাতে গ্রাহক ফিরিয়ে দেওয়ার প্রবণতা প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনামকে ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে। ফকরুল আমিন রাসেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ওরা এখন আর ভালো জিনিস দেয় না, এরা আস্ত বাটপার।”
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইটি সেক্টরে গ্রাহকদের আস্থাই মূল পুঁজি। স্টার টেকের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ যদি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর খতিয়ে না দেখে, তবে সাধারণ ক্রেতারা বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। বিশেষ করে ওয়ারেন্টি থাকা অবস্থায় অর্ধেক টাকা রিফান্ড দেওয়া বা পণ্য ফেরত না দেওয়া সরাসরি আইন পরিপন্থী।






















