কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে নানা প্রশ্ন থাকলেও সব সংশয় ঝেড়ে ফেলে রেকর্ড আয় করেছে মার্কিন চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া।
বিবিসি লিখেছে, কোম্পানিটি বার্ষিক আয়ে রেকর্ড গড়েছে। এআই প্রযুক্তিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সংশয় থাকার পরও ২১৫৯০ কোটি ডলার বার্ষিক আয়ের কথা বলেছে তারা।
বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে এনভিডিয়া। কোম্পানিটির অর্থ বছরের শেষ তিন মাসের বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৩ শতাংশ বেড়েছে।
এনভিডিয়া প্রধান জেনসেন হুয়াং বলেছেন, “কম্পিউটিংয়ের চাহিদা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। আমাদের গ্রাহকরা এআই কম্পিউটিংয়ে বিনিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতায় নেমেছে, যা এআই শিল্প বিপ্লব ও তাদের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।”
এআই খাতের বিভিন্ন কোম্পানিকে চিপ সরবরাহের পাশাপাশি গত কয়েক সপ্তাহে এনভিডিয়া নিজস্ব নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন চাহিদা তৈরির পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে।
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানিটির শেয়ারবাজার মূল্য প্রায় ৪.৮ ট্রিলিয়ন ডলার, যা এআই অবকাঠামো তৈরির মূল কারিগর হয়ে উঠেছে। কোম্পানিটি ওপেনএআই ও মেটা’র মতো শীর্ষস্থানীয় এআই মডেল ডেভেলপারদের অত্যাধুনিক চিপ সরবরাহ করে।
‘ডিপওয়াটার অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট’-এর ম্যানেজিং পার্টনার জিন মানস্টার বলেছেন, এ অবকাঠামো তৈরির কাজ সম্ভবত দীর্ঘ সময় ধরে চলবে।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেছেন, “যারা এসব টুল ব্যবহার করছে না, তাদের ধারণার চেয়েও অনেক দ্রুতগতিতে এআই এগিয়ে যাচ্ছে।”
অন্যান্য কোম্পানির সঙ্গে এনভিডিয়ার ক্রমাগত ব্যবসায়িক সম্পর্কের জাল নিয়ে বিনিয়োগকারীরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং এ নিয়ে তারা কিছুটা উদ্বিগ্নও।
সমালোচকরা ‘সার্কুলার ফাইন্যান্সিং’ বা চক্রাকার অর্থায়নের বিষয়টি সামনে এনেছেন। তাদের মতে, এনভিডিয়া অন্য যেসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করছে তার ফলে এআইয়ের প্রকৃত চাহিদা আসলে কতটা শক্তিশালী সেই ধারণাটি অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে।
এদিকে, কোম্পানিটি আমেরিকা ও চীনের মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও আটকা পড়েছে। বুধবার এনভিডিয়া যে ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পূর্বাভাস দিয়েছে, তাতে চীনের কাছে চিপ বিক্রি থেকে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়নি।
গত মাসে ট্রাম্প প্রশাসন নির্দিষ্ট কিছু শর্তে এনভিডিয়াকে তাদের দ্বিতীয় উন্নত চিপ ‘এইচ২০০’ চীনা গ্রাহকদের কাছে বিক্রির অনুমতি দিয়েছিল।
তবে এ সপ্তাহে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা আইনপ্রণেতাদের বলেছেন, এখন পর্যন্ত ওইসব চিপের একটিও চীনা গ্রাহকদের কাছে বিক্রি হয়নি।
এনভিডিয়া নিজেদের পণ্যের পরিধিও বাড়াচ্ছে, যাতে যেসব ভৌত বা ফিজিক্যাল ডিভাইসে এআই যোগ থাকে সেগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগ হওয়া যায়।
গত মাসে লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি মেলা ‘সিইএস’তে কোম্পানির প্রধান জেনসেন হুয়াং স্বয়ংক্রিয় বা চালকবিহীন গাড়ির জন্য নতুন এক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম উন্মোচন করেছেন।
হুয়াং বলেছেন, তাদের এ ওপেন সোর্স এআই মডেলটির নাম ‘আলপামায়ো’, যা স্বয়ংক্রিয় যানবাহনে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা যোগ করবে।
এনভিডিয়া বলেছে, আগামী বছরের মধ্যে নাম প্রকাশ না করা এক পার্টনার কোম্পানির সঙ্গে মিলে রোবোট্যাক্সি পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা করছে তারা।
এআই মডেল প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এনভিডিয়া চিপগুলো এতদিন শীর্ষস্থানে ছিল। তবে এখন ‘ইনফারেন্স’ পর্যায়ে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে এনভিডিয়া।
‘ইনফারেন্স’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রশিক্ষিত কোনো এআই মডেল বাস্তব জগতের তথ্য বিশ্লেষণ করে যৌক্তিক উত্তর তৈরি করতে পারে।
চতুর্থ প্রান্তিকে এনভিডিয়া ২ হাজার কোটি ডলারের বিনিময়ে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রযুক্তি কোম্পানি গ্রক’কে (ইলন মাস্কের এআই চ্যাটবট গ্রক নয়) কিনে নিয়েছে, যা ‘ইনফারেন্স’ বা এআইয়ের যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে কোম্পানিটির দক্ষতা আরও বাড়াবে।






















