বর্তমানে বাংলাদেশের স্মার্টফোন বাজারের একটি বড় অংশ দখল করে আছে ‘গ্রে-মার্কেট’ বা অবৈধভাবে আসা হ্যান্ডসেট। সরকারের রাজস্ব আদায়ে টান পড়া এবং বৈদেশিক ঋণের চাপ বাড়ার এই সংকটে, অবৈধ মোবাইল ব্যবসা বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।
১. রাজস্ব ক্ষতি ও অর্থ পাচার
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ মোবাইল হ্যান্ডসেট অবৈধ পথে বা স্মাগলিংয়ের মাধ্যমে প্রবেশ করে।
রাজস্ব ক্ষতি: এই ফোনগুলো আমদানিতে কোনো ভ্যাট বা ট্যাক্স দেওয়া হয় না, ফলে সরকার বছরে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
টাকা পাচার: অবৈধ আমদানির জন্য হুন্ডির মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে।
২. এনইআইআর (NEIR): কেন এটি বাস্তবায়ন জরুরি?
বিটিআরসি (BTRC) কর্তৃক প্রবর্তিত NEIR বা ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার ব্যবস্থাটি সঠিকভাবে কার্যকর হলে:
অবৈধ ফোন শনাক্ত: ডাটাবেজে নিবন্ধিত নয় এমন যেকোনো ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
রাজস্ব আদায়: গ্রাহকরা বৈধ ফোন কিনতে বাধ্য হবেন, ফলে আমদানিকারকরা ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে ফোন আনবেন এবং সরকারের রাজস্ব আয় বহুগুণ বাড়বে।
নিরাপত্তা: চুরি হওয়া বা অপরাধে ব্যবহৃত ফোন দ্রুত ট্র্যাক করা সম্ভব হবে।
৩. লাগামহীন ব্যয় বনাম সীমিত আয়
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থায় যখন বড় বড় মেগা প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে এবং বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ বাড়ছে, তখন অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব বাড়ানো অপরিহার্য। মোবাইল আমদানির মতো একটি বৃহৎ খাতকে শৃঙ্খলায় আনতে পারলে ঋণের ওপর নির্ভরতা কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব।
৪. অবৈধ ব্যবসায়ীদের দাপট
একটি নির্দিষ্ট অসাধু গোষ্ঠী নীতিমালার তোয়াক্কা না করে সরকারকে কর ফাঁকি দিয়ে দেদারসে ব্যবসা করে যাচ্ছে। এতে যেমন বৈধ ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন, তেমনি রাষ্ট্র বঞ্চিত হচ্ছে তার প্রাপ্য পাওনা থেকে। বিটিআরসি-র কঠোর নজরদারি এবং এনইআইআর-এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নই পারে এই সিন্ডিকেট ভাঙতে।
সরকারের আয়ের উৎসে গতি ফেরাতে এবং ডলার সংকট কমাতে ডিজিটাল অটোমেশন তথা এনইআইআর বাস্তবায়ন এখন কোনো বিকল্প নয়, বরং আবশ্যিক। অবৈধ মোবাইল ব্যবসা বন্ধ হলে কেবল রাজস্বই বাড়বে না, বরং দেশের আইসিটি খাতের সামগ্রিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।





















