বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন মানেই যেন ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল এক দুনিয়া। মেসেজ পাঠানো, গান শোনা, পেমেন্ট করা কিংবা তথ্য খোঁজা, প্রায় সব কাজই এখন ডেটা সংযোগের ওপর নির্ভর করে। তাই হঠাৎ নেটওয়ার্ক না থাকলে বা মোবাইল ডেটা শেষ হয়ে গেলে অনেকেই যেন অচল হয়ে পড়েন। বিশেষ করে ভ্রমণের সময়, দুর্গম এলাকায় গেলে বা বিমানযাত্রায় ইন্টারনেট না থাকলে সমস্যাটা আরও বেশি অনুভূত হয়।
তবে অনেকেই জানেন না, স্মার্টফোনে ব্যবহৃত কিছু জনপ্রিয় অ্যাপ রয়েছে, যেগুলো ইন্টারনেট ছাড়াও বেশ কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। এমনকি এসব অ্যাপের অনেক অফলাইন ফিচার রয়েছে, যেগুলো আমরা সচরাচর ব্যবহারই করি না। অথচ প্রয়োজনের মুহূর্তে এই সুবিধাগুলো বেশ কাজে লাগতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম স্ল্যাশগিয়ার-এর এক প্রতিবেদনে এমন পাঁচটি অ্যাপের কথা তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলো ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াও ব্যবহারকারীদের গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিতে সক্ষম। ব্রাউজার থেকে শুরু করে পেমেন্ট ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত অ্যাপও রয়েছে এই তালিকায়।
চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই অ্যাপগুলো সম্পর্কে
১. গুগল ক্রোম ও অন্যান্য ব্রাউজার
অনেকের ধারণা, ব্রাউজার মানেই ইন্টারনেট সংযোগ। কিন্তু বাস্তবে গুগল ক্রোম বা অন্যান্য ব্রাউজার অফলাইনেও অনেক কাজ করতে পারে। ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও এর মাধ্যমে পডকাস্ট শোনা যায় কিংবা কম্পিউটারে সংরক্ষিত ভিডিও দেখা যায়। এছাড়া পিডিএফ ফাইল পড়া, টেক্সট ফাইল সম্পাদনা করা কিংবা কোডিংয়ের মতো কাজেও অফলাইনে ব্রাউজার ব্যবহার করা সম্ভব।
২. স্পটিফাই
গান শোনার ক্ষেত্রে স্পটিফাই এখন সারা বিশ্বেই বেশ জনপ্রিয়। এটি মূলত একটি স্ট্রিমিং সেবা হলেও এর অফলাইন সুবিধা বেশ শক্তিশালী। প্রিমিয়াম গ্রাহকরা প্রায় ১০ হাজার গান ডাউনলোড করে রাখতে পারেন। ফলে দীর্ঘ বিমান ভ্রমণ কিংবা ইন্টারনেটবিহীন এলাকায়ও সহজেই গান শোনা যায়। পাশাপাশি ফোনের মেমোরিতে থাকা গানগুলোও এ অ্যাপের মাধ্যমে প্লে করা সম্ভব।
৩. গুগল ওয়ালেট ও অ্যাপল ওয়ালেট
স্মার্টফোন ব্যবহার করে পেমেন্ট করার ক্ষেত্রে গুগল ওয়ালেট ও অ্যাপল ওয়ালেট এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই মনে করেন, এসব অ্যাপ ব্যবহার করতে হলে ইন্টারনেট লাগবে। কিন্তু দোকানে গিয়ে পেমেন্ট করার সময় ফোনের ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন হয় না। কারণ এসব অ্যাপ এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করে লেনদেন সম্পন্ন করে। ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের তথ্য ফোনে সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষিত থাকে বলে ডেটা সংযোগ ছাড়াই পেমেন্ট করা যায়। এমনকি কনসার্টের টিকিট বা বোর্ডিং পাসও অফলাইনে দেখানো সম্ভব।
৪. কিন্ডেল
বইপ্রেমীদের জন্য কিন্ডেল একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় অ্যাপ। একবার বই ডাউনলোড হয়ে গেলে সেটি পড়ার জন্য আর ইন্টারনেটের প্রয়োজন হয় না। দীর্ঘ ভ্রমণে অনেক বই সঙ্গে বহন করার ঝামেলা এড়াতে একটি কিন্ডেল অ্যাপই যথেষ্ট। অফলাইনে বই পড়ার সময় কোনো অংশ হাইলাইট করলে বা নোট লিখলে পরে ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া মাত্রই সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিংক হয়ে যায়।
৫. গুগল অথেন্টিকেটর
অনলাইন অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন বা ২এফএ এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গুগল অথেন্টিকেটর অ্যাপটি সম্পূর্ণ অফলাইনেই কাজ করে। এটি একটি নির্দিষ্ট অ্যালগরিদম ব্যবহার করে প্রতি ৩০ সেকেন্ড পরপর নতুন কোড তৈরি করে। যেহেতু পুরো প্রক্রিয়াটি ফোনের ভেতরেই সম্পন্ন হয়, তাই কোড পাওয়ার জন্য কোনো নেটওয়ার্ক বা সিম কার্ডের সিগন্যালের প্রয়োজন হয় না। এ কারণে এটি এসএমএস-ভিত্তিক কোডের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ বলে মনে করা হয়।





















