সংসদ কক্ষে স্পিকারের আসন ফাঁকা রেখে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। ১২ মার্চ, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫ মিনিটে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অধিবেশন শুরু হয়।
বেলা সোয়া ১১টার কিছু আগে প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত আন্দোলন সংগ্রামে সব শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
প্রথম অধিবেশনটি প্রায় এক মাস চলতে পারে।
আগেই জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছিলেন, এই অধিবেশনের প্রথম দিনেই নির্বাচিত হবেন নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রারম্ভিক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক এই অধিবেশনের সূচনা হবে।
নির্বাচনের পর ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হবে। এই বিরতিতে সংসদ ভবনেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশনের মূল কার্যক্রম শুরু হবে।
অধিবেশনে পাঁচ সদস্যের একটি সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন ও শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। এছাড়া প্রথম বৈঠকে সরকারের প্রধান কাজ হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের মেয়াদে জারি করা প্রায় ১৩০টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
এই তালিকার ১২২ নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশ (সংশোধনী) ২০২৬। সংসদ এই অধ্যাদেশে অনুমোদন দিলেই নতুন যোগাযোগ নীতিমালা বাস্তবায়িত হবে।
এর আগে সকালে সংসদের প্রথম অধিবেশনে যোগ দেয়ার আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আজকে জনগণের প্রত্যাশিত সংসদ বসতে যাচ্ছে। এই সংসদের মাধ্যমে গণতন্ত্রের পদযাত্রা শুরু হবে। জুলাই শহীদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হবে।
১১ মার্চ, বুধবার বুধবার সরকার ও বিরোধীদলীয় এমপিরা আলাদা সংসদীয় দলের বৈঠক করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট হয়নি– শুরুর বৈঠকে কে সভাপতিত্ব করবেন এবং নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কে হচ্ছেন। গতকালের বৈঠকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার দলের অবস্থান অনুযায়ী নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) সহকারে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপির অবস্থান অনুযায়ী বিরোধীদলীয় সদস্যরা গণভোটে পাস হওয়া জুলাই সনদের হুবহু বাস্তবায়ন চায়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার কাঠামো, সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন পদ্ধতিসহ কয়েকটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারণ নিয়েই দুপক্ষের মধ্যে মূলত মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।






















