ক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ ফাইটার জেট এফ-৩৫ এবং ইসরায়েলের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) । তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়ই এই দাবি নাকচ করেছে। আর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, এফ-৩৫ ধ্বংসের কোনো প্রমাণ না পেলেও ইরান এই দাবির মাধ্যমে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালাচ্ছে। ইরানের ড্রোন হামলার ফলে ইসরায়েলের বেশ কিছু কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত মার্চ থেকে। গত ১৭ মার্চ ইরানি সামরিক বাহিনী ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সাইবার সেন্টার, প্রতিরক্ষা শিল্প স্থাপনা এবং বিশেষ করে ‘রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস’ (Rafael Advanced Defense Systems) লক্ষ্য করে সিরিজ ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এরপর ২১ মার্চ, তেল আবিবের নিকটবর্তী বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় জ্বালানি ডিপো এবং সামরিক বিমান অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বার্তা দিলে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের জানায়, অধিকাংশ ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। অবশ্য এর ধ্বংসাবশেষে কয়েকটি ব্যক্তিগত বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্বীকার করে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের কোনো এফ-৩৫ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। একটি বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, তবে কোনো ক্ষতি হয়নি। ইসরায়েলও দাবি করেছে, তাদের কোনো এফ-১৬ ভূপাতিত হয়নি। ২১ মার্চ আইআরজিসি আরও দাবি করে, ইরানের মধ্যাঞ্চলের আকাশে একটি ইসরায়েলি এফ-১৬ ভূপাতিত করা হয়েছে। এটি গত তিন সপ্তাহে তাদের ভূপাতিত করা তৃতীয় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান বলে উল্লেখ করা হয়। আইআরজিসি বলেছে, এখন পর্যন্ত তারা ২০০টিরও বেশি শত্রুপক্ষের আকাশযান—ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল ও যুদ্ধবিমান—ধ্বংস করেছে। ইসরাইলের এক কোটি ডলার সমমূলে ড্রোন ধ্বংস করেছে আইআরজিসি’র এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম।
তবে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ১৯ মার্চ দেশীয় প্রযুক্তির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে একটি মার্কিন এফ-৩৫ ভূপাতিত করা হয়েছে। অপরদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম যেমন আল-জাজিরা ও দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট উল্লেখ করেছে, ইরান প্রায়ই সামরিক সাফল্য অতিরঞ্জিত করে প্রচারণা চালায়। এফ-৩৫ ভূপাতিত হওয়ার কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অবশ্য ইরানের নিজস্ব প্রযুত্তির স্বল্প খরচের ড্রোন প্রযুক্তি বারেবারেই সামনে চলে আসছে। ইরানের ইসপাহান অঞ্চলে ভূপাতিত করা হয় ইসরাইলি অত্যাধুনিক হারমিজ ৯০০ চালকবিহীন ড্রোন।
সঙ্গত কারণেই ইসরায়েলের অত্যাধুনিক আয়রন ডোম (Iron Dome) এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল থাকলেও, ইরানের সস্তা ও বিপুল সংখ্যক কামিকাজি ড্রোন (যেমন- শাহেদ-১৩৬) এই ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরে ইরান সংঘাতের সময় ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ইসরায়েলের কয়েকটি ড্রোন (যেমন Hermes 900) ধ্বংস হয়েছে। তবে এফ-৩৫ ভূপাতিত হওয়ার দাবি এখনও বিতর্কিত এবং যাচাইযোগ্য নয়। একইসঙ্গে ইরান এই ধরনের দাবি নিজেদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রদর্শন বলেই মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, যদি সত্যিই কোনো এফ-৩৫ ভূপাতিত হয়ে থাকে, তবে তা হবে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি স্টেলথ ফাইটারকে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ধ্বংস করার ঘটনা।



















