বাংলাদেশে অবৈধ ও চোরাই পথে আসা মোবাইল হ্যান্ডসেট বন্ধ করতে এবং সরকারের রাজস্ব বাড়াতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) ব্যবস্থা কার্যকর করেছে। এই সিস্টেমের মাধ্যমে নেটওয়ার্কে সংযুক্ত প্রতিটি হ্যান্ডসেটের আইএমইআই (IMEI) যাচাই করা হচ্ছে, যা মোবাইল ফোন চুরি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখবে।
এনইআইআর (NEIR) আসলে কী?
NEIR হলো বিটিআরসি-র একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ, যেখানে দেশের সকল বৈধ (আমদানিকৃত এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত) মোবাইল হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বর সংরক্ষিত থাকে। যখনই কোনো নতুন সিম কোনো হ্যান্ডসেটে প্রবেশ করানো হয়, তখন NEIR স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই হ্যান্ডসেটের বৈধতা যাচাই করে।
অবৈধ হ্যান্ডসেট কি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে?
বর্তমানে বিটিআরসি-র নির্দেশনা অনুযায়ী, অনিবন্ধিত বা অবৈধ হ্যান্ডসেটগুলো নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হওয়ার পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সচল থাকে। গ্রাহককে এসএমএস-এর মাধ্যমে জানানো হয় যে তার হ্যান্ডসেটটি বৈধ নয়। তবে সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে এসব হ্যান্ডসেট নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিশেষ করে চোরাই পথে আসা দামী আইফোন বা ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলো এখন কড়া নজরদারিতে।
আপনার ফোনটি বৈধ কি না যাচাই করার পদ্ধতি:
আপনার বর্তমান বা নতুন কেনা হ্যান্ডসেটটি বৈধ কি না তা জানতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
১. ফোনের ডায়াল প্যাডে গিয়ে *#০৬# ডায়াল করে ১৫ ডিজিটের আইএমইআই (IMEI) নম্বরটি সংগ্রহ করুন।
২. মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুন: KYD <স্পেস> ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বর। (উদাহরণ: KYD 123456789012345)
৩. মেসেজটি পাঠিয়ে দিন ১৬০০২ নম্বরে।
৪. ফিরতি এসএমএস-এ আপনি জানতে পারবেন আপনার হ্যান্ডসেটটি বিটিআরসি-র ডাটাবেজে নিবন্ধিত আছে কি না।
বিদেশ থেকে আনা ফোনের ক্ষেত্রে করণীয়:
ব্যক্তিগতভাবে বিদেশ থেকে আনা বা উপহার পাওয়া হ্যান্ডসেটগুলো সচল রাখতে হলে গ্রাহককে বিটিআরসি-র পোর্টালে গিয়ে পাসপোর্ট এবং ক্রয়ের রসিদ আপলোড করে সেটি নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধিত না থাকলে সেই ফোনে বাংলাদেশের কোনো সিম স্থায়ীভাবে কাজ করবে না।
গ্রাহকদের জন্য বিটিআরসি-র পরামর্শ:
কোনো হ্যান্ডসেট কেনার আগে অবশ্যই সেটির বক্সের গায়ে থাকা আইএমইআই নম্বরটি ১৬০০২ নম্বরে পাঠিয়ে যাচাই করে নিন।
অবশ্যই বিক্রেতার কাছ থেকে বৈধ রসিদ সংগ্রহ করুন।
ব্যবহৃত বা সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কেনার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকুন, কারণ সেটি চোরাই বা অনিবন্ধিত হতে পারে।
NEIR কার্যকর হওয়ার ফলে গ্রে-মার্কেট বা অবৈধ আমদানিকারকদের দৌরাত্ম্য অনেকটা কমেছে, যা বৈধ আমদানিকারক ও স্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করছে। তবে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বিটিআরসি-র এই সিস্টেমটি আরও সহজতর করা এবং ডাটাবেজ নিয়মিত আপডেট করা জরুরি।



















