চিপের বৈশ্বিক বাজার এবং এআই (AI) বিপ্লবের ফলে তৈরি হওয়া এই অস্থিরতা নিয়ে আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ‘টেকজুম টিভি’-র জন্য একটি বিশেষ বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো:
২০৩০ পর্যন্ত থাকবে চিপ সংকট: স্মার্টফোন ও পিসির দাম আকাশচুম্বী হওয়ার শঙ্কা
বিশেষ প্রতিবেদন | টেকজুম টিভি ২০ এপ্রিল, ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অভাবনীয় প্রসারের নেপথ্যে থাকা সেমিকন্ডাক্টর বা চিপের বাজারে এক ভয়াবহ সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। নিক্কেই এশিয়া ও কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, মেমোরি চিপের এই ঘাটতি কেবল সাময়িক নয়, বরং ২০৩০ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমাদের নিত্যব্যবহৃত স্মার্টফোন ও ল্যাপটপের দামে।
চাহিদার তুলনায় উৎপাদন মাত্র ৬০ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ চিপ নির্মাতারা বর্তমানে চাহিদার তুলনায় মাত্র ৬০ শতাংশ চিপ উৎপাদন করতে পারছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বিদ্যুৎ ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। মেটা, গুগল ও মাইক্রোসফটের মতো টেক জায়ান্টরা তাদের ডেটা সেন্টারের জন্য বিপুল পরিমাণ চিপ অগ্রিম কিনে রাখায় সাধারণ স্মার্টফোন ও পিসির জন্য প্রয়োজনীয় মেমোরি চিপের উৎপাদন প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় বড় বাধা: স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্স
বিশ্বের শীর্ষ মেমোরি চিপ নির্মাতা স্যামসাং তাদের পিয়ংটেকে অবস্থিত চতুর্থ কারখানায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন ২০২৭ সালের আগে শুরু করতে পারছে না। এমনকি তাদের পঞ্চম কারখানাটি ২০২৮ সালের আগে সচল হওয়া অসম্ভব।
স্যামসাং মেমোরি প্রধান কিম জে-জুন: সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ অত্যন্ত সীমিত।
এসকে হাইনিক্স: যদিও তারা নতুন এইচবিএম (HBM) কারখানা চালু করেছে, তবে কাঁচামালের ঘাটতির কারণে এই স্বস্তি খুব একটা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। এসকে গ্রুপের চেয়ারম্যান চে তাই-ওন সতর্ক করেছেন যে, এই সংকট ২০৩০ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে।
দাম বেড়েছে ৯০ শতাংশ
বাজারের ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণকারী তিন প্রতিষ্ঠান—স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স ও মাইক্রোন—এআই চিপ তৈরিতে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় সাধারণ মেমোরির ঘাটতি চরমে পৌঁছেছে। ফলে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকেই মেমোরি চিপের দাম প্রায় ৯০ শতাংশ বেড়ে গেছে। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ বলছে, সংকট কাটাতে প্রতি বছর অন্তত ১২ শতাংশ হারে উৎপাদন বাড়ানো প্রয়োজন হলেও বর্তমানে তা মাত্র ৭.৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ।
স্মার্টফোনের বাজারে অশনিসংকেত
স্মার্টফোনের প্রধান কাঁচামাল ওয়েফার (Wafer) সংকটের কারণে ডিভাইসের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। মেমোরি চিপের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় স্মার্টফোন নির্মাতারাও ফোনের দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে চাহিদা ও সরবরাহের মাঝে ২০ শতাংশের বেশি ঘাটতি তৈরি হবে।



















