ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক, ডেটা সেন্টার থেকে শুরু করে ব্যাংকিং ও সরকারি অনলাইন সেবা—আধুনিক বিশ্বের মেরুদণ্ড তথা ‘ডিজিটাল অবকাঠামো’ এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে। সাইবার অপরাধীদের হামলার গতি ও চাতুর্য এতটাই বেড়েছে যে, প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো এখন অকার্যকর হয়ে পড়ছে। দ্য ন্যাশনাল নিউজ ও আইটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান কোয়ালিসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগের চিত্র ফুটে উঠেছে।
হামলার গতি ও ভয়াবহতা
কোয়ালিসের ‘দ্য ব্রোকেন ফিজিক্স অব রেমেডিয়েশন’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হ্যাকাররা এখন আগের চেয়ে অনেক কম সময়ে যেকোনো নিরাপত্তা দেওয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে পারছে। ২০২৪-২৫ সালের পরিসংখ্যান বলছে:
সাইবার বিঘ্ন: এক বছরে বিশ্বজুড়ে ১ লাখ ৩৯ হাজারের বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
র্যানসমওয়্যার সংক্রমণ: র্যানসমওয়্যার হামলা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আর্থিক ক্ষতি: ২০২৫ সালে সাইবার অপরাধের কারণে বিশ্বজুড়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে।
জেনারেটিভ এআই: হ্যাকারদের নতুন অস্ত্র
সাইবার অপরাধীরা এখন জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে আরও নিখুঁত ও বিধ্বংসী ম্যালওয়্যার তৈরি করছে। এর ফলে হামলার ধরনগুলো প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল সিস্টেমগুলো যত বেশি আন্তঃসংযুক্ত হচ্ছে, একটি ছোট ছিদ্র দিয়ে পুরো নেটওয়ার্ক ধ্বংস করার ঝুঁকি তত বাড়ছে।
সমাধানের পথ: এআই ও অটোমেশন
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, গতানুগতিক বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আর সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এখন প্রয়োজন:
এআই চালিত প্রতিরক্ষা: দ্রুত হামলা শনাক্ত ও প্রতিরোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সর্বোচ্চ ব্যবহার।
অটোমেশন: মানুষের ভুলের ঝুঁকি কমাতে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
কৌশলগত পরিবর্তন: কোয়ালিসের সিইও সুমেধ ঠাকুরের মতে, এআই-এর ব্যবহার মানে মানুষের ভূমিকা কমে যাওয়া নয়, বরং মানুষকে আরও জটিল ও কৌশলগত কাজে দক্ষ করে তোলা।
ভবিষ্যৎ ঝুঁকি: ২০২৬ থেকে ২০৩৬
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ২০২৬ সালের ‘গ্লোবাল রিস্ক রিপোর্ট’ অনুযায়ী, আগামী এক দশকে প্রযুক্তিগত ঝুঁকিগুলো বিশ্বের শীর্ষ উদ্বেগের তালিকায় থাকবে। সাইবার অপরাধীরা কেবল আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং জাতীয় গুরুত্বের ফাইবার অপটিক কেবল ও ক্লাউড সিস্টেমের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছে।



















