সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়ে ২০২৫ সালে সাধারণ মানুষ বিপুল পরিমাণ অর্থ খুইয়েছেন। ওই সময় মার্কিনরা এমন প্রতারণায় মোট ২ দশমিক ১ বিলিয়ন বা ২১০ কোটি ডলার হারিয়েছেন। মার্কিন ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য ওঠে এসেছে। খবর টেকক্রাঞ্চ।
এফটিসি জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণা আট গুণ বেড়েছে। বর্তমানে অন্য যেকোনো মাধ্যমের তুলনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতারণার হার এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
তথ্যানুযায়ী, ব্যবহারকারীরা সবচেয়ে বেশি প্রতারিত হন ফেসবুকের মাধ্যমে। এর পরেই রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের অবস্থান। সবগুলোই মেটা মালিকানাধীন প্লাটফর্ম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেসবুকের মাধ্যমে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ টেক্সট মেসেজ বা ই-মেইল স্ক্যামের চেয়েও অনেক বেশি। সোশ্যাল মিডিয়া বা ফেসবুকে সবচেয়ে সাধারণ প্রতারণা হলো কেনাকাটা বা শপিং স্ক্যাম। মোট ভুক্তভোগীদের ৪০ শতাংশের বেশি মানুষ জানান, তারা বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দেখে পণ্য অর্ডার করে প্রতারিত হন।
পোশাক, প্রসাধনী, গাড়ির যন্ত্রাংশ এমনকি পোষা প্রাণী কেনার বিজ্ঞাপন দিয়েও প্রতারণা করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব বিজ্ঞাপন ব্যবহারকারীদের অপরিচিত বা ভুয়া ওয়েবসাইটে নিয়ে যায়, যা নামী ব্র্যান্ডের নকল করে তৈরি করা হয়। বিনিয়োগের নামেও চলছে বড় ধরনের জালিয়াতি। গত বছর এ ধরনের বিনিয়োগ স্ক্যামে মানুষের লোকসান হয়েছে প্রায় ১১০ কোটি ডলার। প্রতারকরা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে বা ভুয়া নথি দেখিয়ে মানুষকে প্রলুব্ধ করে।
অন্যদিকে, রোমান্স স্ক্যাম বা আবেগীয় প্রতারণায় অর্থ হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। ২০২৫ সালে রোমান্স স্ক্যামের অভিযোগকারীদের ৬০ শতাংশই জানান তাদের সঙ্গে প্রতারকদের পরিচয় হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এ ক্ষেত্রে প্রতারকরা প্রথমে বন্ধুত্ব ও পরে কোনো সমস্যার কথা বলে টাকা দাবি করে।





















