যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলে সাইবার হামলা হয়েছে। ফলে বছরের শেষের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সময়ে এসে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা, বিভ্রান্তি ও বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে।
এ সাইবার হামলা বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল, যার প্রভাবে আনুমানিক নয় হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হ্যাকিং গ্রুপ ‘শাইনি হান্টার’ এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের হামলার ফলে হাজার হাজার স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবহৃত একাডেমিক সফটওয়্যার ‘ক্যানভাস’ সপ্তাহে অচল হয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার ক্যানভাসের মালিক প্রতিষ্ঠান ইনস্ট্রাকচার তাদের ওয়েবসাইটে জানায়, ‘অধিকাংশ ব্যবহারকারীর জন্য ক্যানভাস আবার চালু হয়েছে।’ তবে শুক্রবারও কিছু বিশ্ববিদ্যালয় সেবা বিঘ্নের অভিযোগ জানিয়েছে।
মিসিসিপি স্টেট ইউনিভার্সিটি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের হারিয়ে যাওয়া কাজ পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিতে শুক্রবারের ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করার কথা জানিয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব সিডনি শুক্রবার তাদের শিক্ষার্থীদের জানায়, ‘ক্যানভাস ব্যবহার করা যাচ্ছে না’ এবং তারা শিক্ষার্থীদের লগইন করার চেষ্টা না করতে নির্দেশ দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি তাদের ওয়েবসাইটে লিখেছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় নয় হাজার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আমরাও এ বিভ্রাটের শিকার এবং আমরা এখনো ইনস্ট্রাকচারের পরামর্শের অপেক্ষায় আছি। এ বিভ্রাট শিক্ষার্থীদের কোর্সওয়ার্ক ও পরীক্ষায় প্রভাব ফেলেছে এবং তারা সেমিস্টারের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে এটিকে অত্যন্ত বিঘ্ন সৃষ্টিকারী হিসেবে স্বীকার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইদাহো স্টেট ইউনিভার্সিটি তাদের পরীক্ষাগুলো বাতিল করেছে। পেন স্টেট ইউনিভার্সিটি বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের পাঠানো এক বার্তায় জানায়, কেউই ক্যানভাসে প্রবেশ করতে পারছে না এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান আসার সম্ভাবনা কম। বিশ্ববিদ্যালয়টি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের কিছু পরীক্ষা বাতিল করে।
এছাড়া ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া শিক্ষার্থীদের জানায়, ক্যানভাসের মূল কোম্পানি ইনস্ট্রাকচারের সাইবার নিরাপত্তা লঙ্ঘনের কারণে বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো জানায়, তারাও এ সাইবার হামলার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া ইউনিভার্সিটি ক্যালিফোর্নিয়া লস অ্যাঞ্জেলেস, ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোসহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয় একই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে।



















